সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আজও ৭ ঘণ্টার যানজট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আজ রোববারও সাত ঘণ্টাব্যাপী যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সকাল নয়টার দিকে মহাসড়কে সংস্কারকাজ শুরু হলে যানজট শুরু হয়, বেলা তিনটা থেকে যা কমতে থাকে।
যানজটের কারণে দুর্ভোগে পড়েন চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশকারী ও চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রীরা। তবে এ যানজটে কোনো গাড়িকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না বলে দাবি করেছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় পলিমার মডিফাইড বিটুমিন (পিএমবি) দিয়ে মহাসড়ক সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এ কাজের জন্য মহাসড়কের এক লেন বন্ধ রাখা হয়। ফলে গাড়ির জট লেগে যায়।
দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একপর্যায়ে এ যানজট চট্টগ্রামের সিটিগেট থেকে বারআউলিয়া দরগা এলাকা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। বেলা তিনটার দিকে গাড়ি ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে।
বেলা একটায় কথা হয় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলামের সঙ্গে। বাসে করে চট্টগ্রাম শহরে যাচ্ছিলেন তিনি। কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বেলা ১১টার দিকে ফুলতলা এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী মিনি বাসে ওঠেন। বেলা একটার দিকে ১৫ কিলোমিটার পার হয়ে চট্টগ্রাম নগরের সিটিগেট এলাকায় পৌঁছান। পরে তিনি বিরক্ত হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।
কামরুল ইসলামের মতো অনেকেই যানজটে পড়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কথা হয় ফৌজদারহাট ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেলা তিনটার পর থেকে গাড়ি কোনো জায়গায় থামছে না। কিন্তু চাপ রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে যাচ্ছে গাড়ি। সকাল থেকে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানা, জেলা পুলিশের ফৌজদারহাট ফাঁড়ি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক দল যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে। সমস্যা হয়েছে যানজটে আটকা পড়া গাড়ি চট্টগ্রাম নগরে ঢুকতে পারছে না। ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়ে যাচ্ছে।
বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক সংস্কারের সময় চালকেরা একদিকে যানজট দেখতে পেলে উল্টো পথে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। ফলে একমুখী যানজট বেড়ে উভয়মুখী যানজটের সৃষ্টি হয়।