‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরের বণিক পাড়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া দুটি ঘর পরিদর্শন করে নাগরিক প্রতিনিধি দল। আজ বেলা ১১টার দিকেছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরের বণিকপাড়ায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি ঘর পরিদর্শন করেছে একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। আজ রোববার সকালে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। যাঁদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে, তাঁরা অনেকেই এখন মনঃক্ষতের মধ্যে আছে।’

রোবায়েত ফেরদৌস আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন এলে প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিয়ে কথা বলি। কিন্তু ভোটারদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি না। এ দেশের সব ভোটার কি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন? যেমন এখানে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা তো নেই।’

রোবায়োত ফেরদৌস বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে সব নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে এখানে যেসব জায়গায় বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণের একটা অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। আমরা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে এই সংখ্যালঘুরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে, তার জন্য আতঙ্ক দূর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ‘নাগরিক উদ্যোগ’–এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা। পরিদর্শনের সময় রাউজান পৌরসভা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে, সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

পরিদর্শনকালে ভুক্তভোগীদের একজন মিঠুন শীল প্রতিনিধিদলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমাদের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আগুন দিয়ে আমাদের মেরে ফেলার। আমরা যারা বাড়িতে ছিলাম, তাদের মধ্যে বুড়ো মা–বাবা, ছোট বাচ্চাসহ ৯ জন কোনোমতে দা দিয়ে বেড়া কেটে বের হয়েছি। অগ্নিসংযোগের কারণে আমার পাসপোর্ট, কাতারের ওয়ার্ক পারমিট এবং ফ্লাইটের টিকিট—সব পুড়ে গেছে। আমরা এখন সর্বস্ব হারিয়ে অসহায়।’

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরের বণিকপাড়ায় বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দুটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অগ্নিসংযোগের এ ঘটনার এক দিন পর থানায় মামলা হয়। এরপর আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ।