‘আড়াই শ ইয়াবাসহ আটক করেছি, ছাড়াতে আড়াই লাখ টাকা লাগবে’

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)

‘আপনার ছেলেকে আড়াই শ ইয়াবাসহ আটক করেছি, তাঁকে ছাড়াতে চাইলে আড়াই লাখ টাকা লাগবে। আপনার ছেলে আমাদের সঙ্গেই আছে। ওর সঙ্গে কথা বলুন।’—এভাবেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এক শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে টাকা দাবি করে প্রতারক চক্র। শুধু ওই শিক্ষার্থী নয়, একইভাবে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছে চুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে। কখনো কোনো অপরাধের কথা বলে, আবার কখনো বৃত্তির টাকা তোলার প্রক্রিয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে প্রতারক চক্রটি।

চক্রটির খপ্পরে পড়ে এরই মধ্যে অনেকেই টাকা খুইয়েছেন। এমন অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে গতকাল সোমবার এক সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চুয়েট কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতারক চক্রটির বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের একজন মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি চুয়েটের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাকিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাবার কাছে মুঠোফোনে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর দাবি করে, আমাকে আড়াই শ ইয়াবাসহ চুয়েটের গেট থেকে আটক করা হয়েছে, ছাড়াতে আড়াই লাখ টাকা লাগবে। আমার কণ্ঠ নকল করে একজনকে দিয়ে বাবার সঙ্গে কথাও বলিয়েছে প্রতারক চক্রটি। আমার মা–বাবা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল।’

রাকিব বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়ার মতো টাকা না থাকায় বাবা সময় চাইলে প্রতারকেরা কল কেটে দেয়। এরই মধ্যে আমার সঙ্গে ফোনে পরিবারের কথা হয়। এ সময় তাদের আমি জানাই ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

চুয়েটের একই ব্যাচ ও বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. তানভীর ইসলামের পরিবারেও ফোন দেয় প্রতারক চক্র। তানভীর জানান, তাঁর মায়ের কাছে ফোন করে চক্রটির এক সদস্য। জানানো হয়, তিনি ৩০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। টাকা পাঠানোর অজুহাতে তাঁর মায়ের ডেবিট কার্ডের সব তথ্য জেনে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তানভীর বলেন, ‘প্রতারকেরা আমার ব্যক্তিগত সব তথ্য এত নিখুঁতভাবে জানায় যে মা বিষয়টি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছে।’

প্রতারণার এসব ঘটনায় গতকাল চুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হ‌ুমায়ূন কবির একটি সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার অফিসে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে অজ্ঞাত প্রতারক চক্র শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মুঠোফোন নম্বরে ফোন করছেন। বৃত্তির টাকা স্থানান্তরের কথা বলে ব্যাংক হিসাব–সংক্রান্ত নানা তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া টাকাও দাবি করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।