ময়মনসিংহে পুলিশ সদস্যকে কোপানোর ঘটনায় মামলা, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা

পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়। আজ শনিবারছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় রাতের তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার রাতে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলার পর তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে হালুয়াঘাট পৌরসভার পাগলপাড়া এলাকায় পুলিশ সদস্য ইজাউল হক ভূঁইয়াকে (৪৩) আহত করা হয়। তিনি হালুয়াঘাট থানায় কর্মরত।

পুলিশ জানিয়েছে, হালুয়াঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের ছেলে মো. শাহরিয়ার আহমেদ (২৮) ওই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করেছেন। ঘটনার পর শাহরিয়ার পালিয়ে যান। পরে গতকাল শুক্রবার বেলা একটার দিকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে হালুয়াঘাট পৌরসভার পাগলপাড়া এলাকায় পুলিশ তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে। এক সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) তিনজনের দলটি চোরাচালান প্রতিরোধে তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করছিল। রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালাতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। গভীর রাতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবকের চলাচল নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে শাহরিয়ার পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।

কেন মোটরসাইকেল থামানো হয়েছে, এ নিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন শাহরিয়ার। ঘটনাস্থলের পাশেই শাহরিয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার কাছে বিষয়টি জানান পুলিশ সদস্যরা। সেখান থেকে ফেরার পথে শাহরিয়ার একজন পুলিশ সদস্যের পিঠে দা দিয়ে কোপ দেন। পরে ওই পুলিশ সদস্যকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

গতকাল বিকেলে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যকে দেখতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। পুলিশকে কুপিয়ে আহত করার পর শাহরিয়ার পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে শাহরিয়ারের মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তাঁর বাবা রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় গতকাল হালুয়াঘাট থানার এএসআই নওয়াব আলী বাদী হয়ে শাহরিয়ার ও অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে মামলা  করেন। সে মামলায় শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার আদালতে সোপর্দ করার কথা আছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া শাহরিয়ারের বাবাকে রাতেই মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন, পুলিশকে আঘাত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার আছে, আজ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জড়িত অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।