গত মঙ্গলবার ভোররাতে পদ্মা সেতুর জাজিরা টোল প্লাজার ৩০০ মিটার সামনে এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবায় রোগীবাহী অ্যাস্বুলেন্স ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ছয়জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পুলিশ ট্রাক ও অ্যাস্বুলেন্স উদ্ধার করে শিবচর হাইওয়ে থানায় জব্দ করে রেখেছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও ট্রাকের চালককে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার ভোররাতে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজাসংলগ্ন অ্যাপ্রোচ সড়কের নাওডোবা এলাকায় ঢাকামুখী করে একটি ট্রাক দাড় করানো ছিল। সড়কের মধ্যে অবৈভাবে পার্কিং করে রাখা হয়েছিল মালবাহী ট্রাকটি। বরিশাল থেকে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্স। সড়কের মধ্যে ট্রাক দাড়িয়ে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স তাৎক্ষণিক গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তাই ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয় অ্যাম্বুলেন্সটি। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ছয়জন মারা যান।

মামলার বাদী অ্যাম্বুলেন্সচালক রবিউলের ভাই ইয়াছিন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাইয়ের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আরেক সন্তান ছোট। এমন পরিস্থিতিতে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। ওই দিন একটি ট্রাক সড়কে দাড়িয়ে ছিল। কুয়াশার কারণে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈন মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত অ্যাম্বুলেন্সচালকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে ট্রাকটি পার্ক করা ছিল কি না, তা তদন্ত না করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, দুর্ঘটনার সময়ের কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান পাওয়া যায়নি। ট্রাকচালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।