ইনজেকশন প্রয়োগের ৫ মিনিটের মধ্যে রোগীর মৃত্যু, কিশোরগঞ্জে হাসাপাতাল ভাঙচুর স্বজনদের
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম বিনয় বিহারী সেন (৫৫)। তিনি কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের সতাল এলাকার নয়ন বিহারী সেনের ছেলে।
ওই ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত সাড়ে ১২টায় হৃদ্রোগের চিকিৎসা নিতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হন বিনয় সেন। ভর্তির পর চিকিৎসায় কিছুটা স্বাভাবিক হন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কর্তব্যরত জ্যেষ্ঠ নার্স বিনয় সেনকে ইনজেকশন দেন। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিনয় সেনের ছেলে হৃদয় সেন বলেন, ‘১৫ দিন আগে ঢাকা থেকে বাবাকে হৃদ্রোগের চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসি। রোববার বাবার শারীরিক অবস্থা আবার খারাপ হলে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক মজিবুর রহমানের কাছে নিয়ে যাই। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পর সেখানে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হন বাবা। তবে সোমবার সন্ধ্যার পর কর্তব্যরত নার্স হাসপাতাল থেকে ইনজেকশন নিয়ে প্রয়োগ করেন। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাবা মারা যান।’
হৃদয় সেন আরও বলেন, ‘কী কারণে রোগী মারা গেলেন, এ বিষয়ে চিকিৎসক ও নার্সের কাছে বারবার জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা কোনো উত্তর দেননি। এমনকি চিকিৎসার যে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও গায়েব হয়ে যায়। তাঁরা কী ইনজেকশন পুশ করেছেন, তা–ও আমাদের জানা নেই।’
বিনয় সেনের মৃত্যু ভুল চিকিৎসায় হয়নি বলে দাবি করেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হেলিশ রঞ্জন সরকার। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে প্রথম আলোকে জানান, হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীকে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর চিকিৎসায় কোনোরকম গাফিলতি ছিল না। তবে মৃত্যুর আগে রোগীকে কিছুটা সুস্থ মনে হয়েছিল। হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়ে থাকে, এই ভালো, হঠাৎ আবার খারাপ অবস্থা হয়ে যেতে পারে।
হাসপাতালের উপপরিচালক আরও বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি নিয়ে স্বজনেরা আপত্তি তুলেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সাপেক্ষে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে জনসম্মুখে প্রকাশ করব। যদি এ–সংক্রান্ত কোনো ফাইল মিসিং হয়, সেটিও তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তবে এর আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করায় কটিয়াদী উপজেলার ধুলদিয়া এলাকার কিন্ডারগার্টেনশিক্ষক মনিরুজ্জামান মল্লিক (৩২) এবং নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম (২২) মারা যান বলে অভিযোগ করা হয়। তখন একজন জ্যেষ্ঠ নার্সকে প্রত্যাহার করার পাশাপাশি দুই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।