আন্দালিভ পার্থর আসনে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির প্রার্থী

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থফাইল ছবি

ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আজ সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেন।

ভোলার এ আসনটি সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তিনি নিজ দলীয় ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে গোলাম নবী আলমগীরকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত হলে এ আসনে বিএনপি আন্দালিভ রহমানের বিপরীতে কোনো প্রার্থী না রাখার ঘোষণা দেয়।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গোলাম নবীকে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দলের নির্দেশনা মেনে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।

জানা গেছে, গোলাম নবী তাঁর আইনজীবী আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে আজ বিকেলে ভোলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শামীম রহমানের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানান। ভোলা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম রহমান জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও বিএনপি প্রার্থী আজ সোমবার তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান-বনানী, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট) নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঢাকার এ আসনটিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন) নির্বাচন করার অনুরোধ জানান। বিষয়টি জানার পর তারেক রহমানকে সম্মান জানিয়ে আন্দালিভ রহমান নিজ এলাকা ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিএনপিও তাঁর বিপরীতে কোনো প্রার্থী না রাখার ঘোষণা দেয়।

বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবরে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা নতুন উদ্দীপনায় মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ধনিয়া ইউনিয়ন বিজেপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ আলী বলেন, ‘আন্দালিভ রহমান পার্থ জোটের প্রার্থী নিশ্চিত হওয়ায় আমরা সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করেছি। আমাদের একটি শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে, এখন অন্য দলের সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোই লক্ষ্য।’

গোলাম নবী আলমগীরের মনোনয়ন প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ বিকেল থেকে জেলা বিএনপির কার্যালয় অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিপরীতে নতুনবাজার এলাকায় অবস্থিত বিজেপির জেলা কার্যালয়ে ভিন্ন চিত্র। গত কয়েক দিন থেকেই সেখানে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে।

জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা বড় শোডাউনের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং জোটের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই এগোতে চান।