বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর প্রথম আলোকে বলেন, এস এম নজরুল ইসলাম চাকরিচ্যুতির তথ্য গোপন করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সর্বশেষ যোগ হলো বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা। এসব অনিয়মের বিষয়ে শিগগিরই কঠোর পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এস এম নজরুল ইসলামকে নিয়ে ১১ নভেম্বর ‘চাকরিচ্যুতির তথ্য গোপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রেজিস্ট্রারের দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, এস এম নজরুল ইসলাম ২৫ অক্টোবর তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বর্ষ-৩, টার্ম-২ এর পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান থাকার পরও মডারেশনে অনুপস্থিত ছিলেন। গত ১৯ অক্টোবর বর্ষ-১, টার্ম-২ (শিক্ষাবর্ষ ২০২০-২১) একটি কোর্সের ক্লাস নেওয়ার পর আর কোনো ক্লাস নেননি এস এম নজরুল। বিভাগে গত ২০ অক্টোবর থেকে সব টার্মের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়। তাঁকে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি তা পালন করেননি। এ ছাড়া ৯ নভেম্বর থেকে বিভাগে এমবিএ রিসার্চ পেপারের ভাইভা ও উপস্থাপন ছিল, এসব কার্যক্রমেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য এস এম নজরুল ইসলামের বাংলাদেশে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে কল করে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর ইংল্যান্ডে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে বার্তা পাঠানো হয়। ‘বার্তাটি দেখা হয়েছে’ প্রদর্শিত হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. জসিম উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেছেন। বিচার–বিশ্লেষণ করে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, সরকারি আদেশ (জিও) ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিক্ষক এস এম নজরুল বিদেশে গিয়ে থাকলে কীভাবে গেছেন, সেটি নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. দিদার-উল-আলম প্রথম আলোকে বলেন, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাতে তাঁর চাকরি দুই বছর আগেই চলে যাওয়ার কথা। এর পরও তিনি তাঁকে সুযোগ দিয়েছেন। অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর অনিয়ম বন্ধ হয়নি। শিগগিরই তাঁকে চিঠি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হবে।