আজ সকালে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ। সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলো। তবে সড়কে ছিল পর্যাপ্ত যাত্রী। অনেককে ব্যাগ হাতে সড়কে দাঁড়িয়ে দূরপাল্লার যানের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

নগরের দক্ষিণ সুরমা এলাকা ছাড়াও আন্তজেলা সড়কগুলোয় বাস-মিনিবাস চলাচল করছে না। এসব সড়কে মোটরসাইকেল ও মাঝেমধ্যে দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

জামিন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হবে।
ময়নুল ইসলাম, সভাপতি, সিলেট জেলা বাস মালিক সমিতি

সিলেট থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার জন্য সকালে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী সুজন মিয়া বলেন, জরুরি কাজে মৌলভীবাজার যেতে হচ্ছে। এখানে এসে জানতে পারেন পরিবহনশ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে আখালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জ ও দিরাইগামী বাসও চলছে না। সুনামগঞ্জ যাওয়ার জন্য ওই বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী আহমদ আলী বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে আসার আগে শুনেছি গাড়ি চলছে না। কিন্তু চিন্তা করছিলাম বিকল্প কোনো বাহনে করে যাব। কিন্তু স্ট্যান্ডে এসে কোনো কিছুই পাচ্ছি না। সকাল থেকে অনেক যাত্রী এসে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন।’

পরিবহন শ্রমিকনেতা আলী আকবরকে গত ৭ ডিসেম্বর সিলেট নগরের সুরমা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন। ২০১৮ সালের নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন আলী আকবর। দেড় মাস থেকে তিনি কারাগারে বন্দী। তাঁর অনুপস্থিতিতে অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তাঁর জামিনের জন্য বারবার আবেদন করা হয়েছে। এমনকি বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমিতির পক্ষ থেকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাঁর জামিন দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কর্মবিরতি পালন ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় ছিল না।

ময়নুল ইসলাম বলেন, জামিন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হবে।