ইসলামী ব্যাংক থেকে একটি গ্রুপের হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া ও রিজার্ভ কমে যাওয়া নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এম এ মান্নান। এসব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লুট করার বিষয়টি বিএনপি কেন, কেউই তো পছন্দ করবে না। আমরা পছন্দ করি নাকি? কথা হলো, এটা নিয়ে লাফালাফি, চিৎকার করে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে রাস্তা দখল করলে তো সমাধান হবে না। সমাধান করতে হবে ঠান্ডা মাথায়।’

সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মো. আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মিহির রঞ্জন দাস, সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষক শেখ নজরুল ইসলাম ও দিলীপ রায়, শাল্লা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস শহীদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় অনেক পিছিয়ে ছিল। সেদিক থেকে আমরা এখন এগিয়েছি। হাওরকে আমরা অবহেলিত দেখতে চাই না। হাওরের মানুষ পুথি পড়ে, ঘুমায় আর খায়—এ কথা বলে হাওরের মানুষকে খাটো করা যাবে না। হাওরের মানুষ অনেক পরিশ্রম করে। বর্তমান সরকার হাওরের উন্নয়নে অনেক কাজ করছে।’

এদিকে আজ রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ বিজিবির মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিকভাবে এখন সরকার চাপে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ‘এটা স্বীকার করছি, এই মুহূর্তে সরকার অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা চাপে আছে। তবে এটাও বলতে হবে, চাপ ধীরে ধীরে কমে আসছে। একটি মহল চাইছিল যেন চাপ না কমে। তারা শেখ হাসিনাকে হঠাতে চায়। শেখ হাসিনা দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকারপ্রধান। দেশের জনগণ ছাড়া তাঁকে সরকার থেকে সরানোর ক্ষমতা আর কারও নেই।’

গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন বছরে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ভালো হবে। দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত আছে। দেশের মানুষের যখন যা লাগবে, বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে।’ তিনি আরও করেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের মর্যাদা বাড়াতে হবে। এ জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে।

অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ-১ আসনের (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ) সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুবুর রহমান, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।