উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেড়া উপজেলায় টিসিবির পণ্যের জন্য ২২ হাজার ১০৫টি কার্ড বরাদ্দ রয়েছে। প্রত্যেক কার্ডধারী মাসে একবার করে কম দামে ডাল, চিনি, তেলসহ নিত্যপণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৪০৫ টাকার বিনিময়ে দুই কেজি করে ডাল, চিনি ও তেল দেওয়া হচ্ছে। খোলাবাজারে এসব পণ্যের দাম ৭০০ টাকার বেশি। ফলে টিসিবির পণ্য পেতে প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কার্ড তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যরা তাঁদের অনুসারী ও পছন্দের লোকদের কার্ড দিয়েছেন। কোনো কোনো পরিবারের একাধিক সদস্যকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টিসিবি এত দিন যে পণ্য বিক্রি করেছে, সেখানে সবার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন শুধু কার্ডধারীদের পণ্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাকি লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না।

গত বুধবার বেড়া পৌর এলাকার দত্তকান্দি মহল্লার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ওই বিক্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ২৯৬ জন কার্ডধারীর মধ্যে ডাল, চিনি ও তেল বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া কার্ডধারীর বাইরেও অসংখ্য নিম্ন আয়ের মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে কার্ড না থাকায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা খালি হাতে ফিরে যান। ফিরে যাওয়া এসব মানুষের কেউ কেউ পণ্য না পেয়ে কেঁদে ফেলেন।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. সবুর আলী বলেন, ‘দু-এক জায়গায় অতিরিক্ত কার্ড দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের উপজেলা প্রশাসনের তদারককারী কর্মকর্তারা কঠোর দৃষ্টি রাখছেন। এতে একই ব্যক্তি বা পরিবার অতিরিক্ত পণ্য কেনার সুযোগ বন্ধ হওয়ায় প্রত্যেক বৈধ কার্ডধারী পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, আপাতত এ উপজেলার জন্য নির্ধারিত ২২ হাজার ১০৫টি কার্ডের বাইরে অতিরিক্ত আর কোনো কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।