দুর্নীতির মামলায় পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক কারাগারে
পাবনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলায় মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক চিকিৎসক তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে তিনি পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক। বর্তমানে অবসরে রয়েছেন।
মামলায় অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পাবনা জেলার কর্মকর্তা বর্তমানে দিনাজপুর জেলার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, পাবনা জেলা সদরের ছাতিয়ানী মহল্লার ঠিকাদার তিন ভাই এ এইচ এম আরেফিন, এ এইচ এম রেজাউন ও এ এইচ এম ফয়সাল।
দুদক পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক থাকার সময় কেনাকাটা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ছয়টি আলাদা মামলা দায়ের করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ ও ১৪ জুন মামলাগুলো দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। সব মামলাতেই তন্ময়কে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্বাসভঙ্গ ও অসদাচরণের মাধ্যমে ২০১৭–২০১৮ এবং ২০১৮–১৯ অর্থবছরে মানসিক হাসপাতালের জন্য কেনা পথ্যসামগ্রীর মূল্য প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দেখিয়ে ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১২ মার্চ আদালতে ছয়টি মামলার আলাদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দুদক পাবনা কার্যালয় জানায়, মামলাগুলোতে হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হন তন্ময় প্রকাশ। তাঁর পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে দুদকের পক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং তন্ময়কে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদকের সমন্বিত পাবনা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলাগুলো এখন আদালতে চলমান। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আদালতই দিবেন। আমরা সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’