টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে
যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাতটায় জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা কয়েক দিন যশোরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিমেল হাওয়া যোগ হয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
যশোরের মতিউর রহমান বিমানঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ও সকালের তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। আজ দ্রুত সূর্যের দেখা মিলেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাপমাত্রা বেড়ে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে হয়। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
সদর উপজেলার শেখহাটি এলাকার জাহিদ হাসান ২৫ বছর ধরে মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে সংসার চালান। শেখহাটি জামরুলতলা মোড়ে তিনি প্রতিদিন ভোর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রীর আশায় বসে থাকেন। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন তাঁর আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু টানা এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহ ও তীব্র ঠান্ডায় তাঁর রোজগার নেমে এসেছে অর্ধেকে।
আজ বেলা ১১টার দিকে জামরুলতলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, জাহিদ হাসানসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক শীতে জবুথবু হয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে আছেন। কিন্তু সকাল থেকে তাঁদের তেমন কোনো যাত্রী মেলেনি। এই মোড়ের অন্তত ১০ জন মোটরসাইকেলচালকের অবস্থাও একই রকম।
জাহিদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। কিন্তু এই শীতের কারণে ৯টার দিকে বের হচ্ছি। এখন ১১টা বাজে। কিন্তু কোনো যাত্রীর দেখা মেলেনি। স্বাভাবিক সময়ে যে টাকা রোজগার হয়, শীতের কারণে তার অর্ধেকও হচ্ছে না।’
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গত আট দিন ধরে যশোরে তীব্র শীত; উত্তরের হিমেল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এই জেলায় আজ ও গতকাল দুই দিনই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এতে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীরা।