আরডিএ সূত্র আরও জানায়, নগরে পরিকল্পিতভাবে যে সাতটি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানেও জায়গা ছাড়া হয়নি। 

জলাশয় ভরাটের বিরূপ প্রভাব থেকে নগরের পরিবেশ রক্ষার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরেকটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় রাজশাহী নগরের ব্যক্তিমালিকানাধীন ২২টি পুকুর সংরক্ষণের জন্য তালিকা করা হয়েছে। প্রকল্পটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। তালিকাভুক্ত পুকুরও এখন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি আহমদ সফিউদ্দিন বলেন, ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে উন্নয়ন করতে হবে। রাজশাহী ছিল সম্ভাবনাময়। এই সম্ভাবনাকে হত্যা করে উন্নয়ন করা হলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। এটি একটি আত্মঘাতী উন্নয়ন হচ্ছে।’

আরডিএর অথরাইজ অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোনো শহরের উন্মুক্ত জায়গা কতটুকু রাখা উচিত, নির্ভর করে শহরের জনসংখ্যার ঘনত্বের ওপরে। আবার উন্মুক্ত জায়গার মধ্যে সড়ক, সংরক্ষিত এলাকা ও জলাশয় রয়েছে। রাজশাহীতে সড়ক সাত থেকে আট ভাগের বেশি হবে না। উন্মুক্ত জায়গা দুই থেকে তিন ভাগের মতো। আর জলাশয় চার থেকে পাঁচ ভাগ। একেক শহরের আদর্শ একেক রকম হয়। যেমন রাজশাহী শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতি একরে ৮৪ জন মানুষ বাস করে। আবার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাস করে ৪ জন। বর্তমানে জলাশয় যে পরিমাণ আছে, তা সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উপযোগী করতে পারলেও রাজশাহী নগরের জন্য ভালো। 

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, এই শহরের স্থাপনা অপসারণ করে উন্মুক্ত জায়গা বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু জলাশয় বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তবে নগরের ছোট বনগ্রাম থেকে বারনই নদ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার খাল রয়েছে সেটা সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করতে পারলে জলাভূমির চাহিদা মিটবে। আবার শহরের পাশ দিয়ে পদ্মা নদী রয়েছে। নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থেকে বেলপুকুর পর্যন্ত ১৮০ ফুট চওড়া বাইপাস সড়কের পাশ দিয়ে একটি লেক করতে পারলেও শহরের জলাশয়ের চাহিদা পূরণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, শেখ রাসেল পার্ক ছাড়াও তাঁরা আরও চারটি খেলার মাঠ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে নগরের কোর্ট এলাকায় একটি, বুধপাড়ায় একটি, বিমানপাড়া এলাকায় কবরস্থানসহ খেলার মাঠ করার জন্য জায়গা খুঁজে বের করেছেন।