আন্ধারমানিক নদীতে ভেসে এল ৩০ ফুট লম্বা তিমি
বরগুনার তালতলী উপজেলার আন্ধারমানিক নদীর তীরে ভেসে এসেছে ৩০ ফুট লম্বা মৃত একটি তিমি। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার খেয়াঘাট–সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদী থেকে তিমিটি ভেসে আসে। খবর পেয়ে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা এটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত তিমিটি বঙ্গোপসাগর থেকে আন্ধারমানিক নদীতে ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর মাঝ থেকে তিমিটিকে নদীর কিনারে নিয়ে আসেন। তবে তিমিটি কয়েক দিন আগে মারা যাওয়ায় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেটি আবার নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বন বিভাগের নিশানবাড়িয়া বিটের কর্মকর্তারা নদী থেকে মৃত তিমিটিকে উদ্ধার করেন। বন বিভাগ জানিয়েছে, তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৫ থেকে ৬ টন হতে পারে।
তিমিটির ছবি পাঠানো হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলীর কাছে। তাঁর ভাষ্য, ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি ‘বেলিন’ তিমি। বঙ্গোপসাগরে এই প্রজাতিটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
বেলিন তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাদের দাঁতের পরিবর্তে মুখে ‘বেলিন’ নামের ঝালরের মতো প্লেট থাকে। এরা এই বেলিনের সাহায্যে সমুদ্রের পানি ছেঁকে অতি ক্ষুদ্র ক্রিল ও প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি এই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এরা আকারে বিশাল হয়। দৈর্ঘ্য ২০ ফুট থেকে শুরু করে ১০০ ফুট (নীল তিমি) পর্যন্ত হতে পারে। এরা মুখে থাকা কেরাটিন নির্মিত শক্ত, কিন্তু নমনীয় বেলিন প্লেট দিয়ে পানি ছেঁকে খাবার খায়। এদের মাথার ওপর দুটি শ্বাসছিদ্র বা ব্লোহোল থাকে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে পটুয়াখালী বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নদীতে ভেসে আসা বিশাল আকৃতির তিমিটি শরীর পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিবেশদূষণ এড়াতে এটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে।
তিমিটি কালো রঙের জানিয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কোস্টগার্ড সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন। মৃত তিমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে কয়েকটি সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। জালে আটকা পড়া, বড় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ, সামুদ্রিক দূষণ ও প্লাস্টিক গ্রহণ কিংবা অসুস্থ অবস্থায় স্রোতের টানে অগভীর পানিতে চলে আসা এর যেকোনোটি কারণ হতে পারে। জোয়ারের সময় নদীতে ঢুকে ভাটায় আটকে পড়ার ঘটনাও আগে ঘটেছে। প্রকৃত কারণ জানতে হলে সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তিমিটির দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ ও কঙ্কাল সংরক্ষণ করা গেলে তা গবেষণা ও শিক্ষার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।