দুই মাসের মাথায় পদ্মার চরে আবারও গুলিতে একজন নিহত

লাশপ্রতীকী ছবি

দুই মাসের মাথায় পদ্মার চরে আবারও গুলিতে হত্যার ঘটনা ঘটল। গতকাল শনিবার রাতে নাটোরের লালপুরের করারি নাওসারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম সোহেল রানা (৩৫)। তাঁর বাবার নাম কালু মন্ডল। তাঁর স্ত্রী স্বাধীনা খাতুনের হাতে গুলি লেগেছে। আহত অবস্থায় তাঁকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সোহেলের স্ত্রীর ভাষ্য, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা স্বামী–স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। বাড়ির টিনের বেড়াতে আঘাত করে বাইরে থেকে বলা হচ্ছিল, তারা প্রশাসনের লোক। একপর্যায়ে তারা টিনের বেড়া ভেঙে ঘরে ঢোকে। কম্বল গায়ে শুয়ে থাকা তাঁর স্বামীকে গুলি করা হয়। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তিনি তাদের চিনতে পারেননি।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়রা খাতুন বলেন, রাত দেড়টার দিকে সোহেল রানাকে মৃত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক আজ সকালে বলেন, ঘটনাস্থলটি রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায়। ঘটনাস্থল নিয়ে বিতর্ক আছে। ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা তাঁকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সে কারণে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর কাজটি বাঘা থানার পুলিশই করছে। কোন থানার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নির্ধারণের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। যে থানার মধ্যে জায়গাটি পড়বে, সেই থানায় মামলা হবে।

গত ২৭ অক্টোবর চরে ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে গুলিতে তিন কৃষক নিহত হন। বাঘা উপজেলার চর পলাশী ফতেপুরে এ ঘটনা ঘটেছিল। তখনো লাশ উদ্ধার করে বাঘা থানায় আনা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থল নির্ধারিত হয় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায়। এ ঘটনায় হাসিনুজ্জামান কাকনসহ বাহিনীর সদস্যদের নামে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় একটি মামলা হয়।

এই ঘটনায় পরে পদ্মার চরে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ পরিচালনা করে মোট ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র।