পুলিশ ও নিখোঁজের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৩ অক্টোবর বিকেল পাঁচটায় পরিবারের কাউকে কিছু না বলে অসীম সাহা (৪০) তাঁর স্ত্রী সীমা সাহা (৩৫) ও একমাত্র ছেলে আর্য সাহাকে (৮) নিয়ে শহরের নিচাবাজারের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এর পর থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত তাঁরা বাড়িতে ফিরে আসেননি। বাড়ি থেকে যাওয়ার পর তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় অসীমের বড় ভাই সুব্রত সাহা ১৩ নভেম্বর সদর থানায় একটি জিডি করেন। পুলিশও তাঁর খোঁজ দিতে পারছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিখোঁজ অসীমের এক স্বজন বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে শহরের এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক জমা দিয়ে সুদে কিছু টাকা নিয়েছিলেন অসীম। পরে তিনি মূল টাকা ওই দাদন ব্যবসায়ীকে ফেরত দিতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

ওই স্বজনের দাবি, ওই দাদন ব্যবসায়ী সুদের টাকা আদায়ের জন্য অসীম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নাটোর, মাদারীপুর ও ঢাকায় চেক জালিয়াতির একাধিক মামলা করেন। তিনি সুদের টাকার জন্য অসীমের পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ জন্য তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। নিখোঁজের পেছনে এর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, কী কারণে অসীম সাহা সপরিবার নিখোঁজ হয়েছেন, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। ১৩ নভেম্বর তাঁর বড় ভাই সুব্রত সাহা থানায় একটি জিডি করেছেন। অসীম সাহা সপরিবার নিখোঁজ থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অসীম সাহা ২০১৪ সালে মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় মৎস্য পদক লাভ করেন। সফল মাছচাষি হিসেবে তিনি শহরের মানুষের কাছে পরিচিত। এ ছাড়া ‘মিনা পল্লী’ নামে নাটোরে তাঁর একটি মাছ ও কৃষিখামার আছে।