১০ ঘণ্টা ধরে কর্ণফুলী নদীতে নিখোঁজ এক গৃহবধূ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ রয়েছেন কনিকা দাশ (২০) নামের এক গৃহবধূ। আজ বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করা যায়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে আবার অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নিখোঁজ কনিকা দাশ রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ইউনিয়নের জেলেপাড়ার বাসিন্দা রুবেল দাশের স্ত্রী। তিনি চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মৃণালপাড়া এলাকার দুলাল দাশের মেয়ে।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কনিকা দাশের মায়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল। এ উপলক্ষে স্বামী ও স্বজনদের নিয়ে নৌকায় করে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা।
নৌকাটি কর্ণফুলী নদীর মাঝপথে পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দেওয়ানজীর হাট ও কোদালা ঘাটসংলগ্ন এলাকা।
কনিকা দাশের আত্মীয় রুবেল দাশ প্রথম আলোকে বলেন, নৌকায় কনিকা দাশ, তাঁর স্বামী রুবেল দাশ (৩০), পলি দাশ (২৫), রাজ ঘোষ (২), অনিশ ঘোষ (৬) ও নৌকার চালকসহ ছয়জন ছিলেন। নৌকাডুবির পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে নৌকাচালকসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
রুবেল দাশ বলেন, মাত্র ৭ মাস আগে কনিকা দাশের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিনি স্থানীয় একটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টান মিশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ ঘোষ নামে দুই বছরের শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু নিখোঁজ গৃহবধূর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাত হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনের আলোয় আবার উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহির উদ্দিন রাত আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, নৌকাডুবির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে। তবে এখনো তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।