যে কথাগুলো দিয়েছি, পালন করার চেষ্টা করছি: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে রুহিয়া উপজেলা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন উপজেলাবাসী। আজ বুধবার দুপুরে রুহিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠেছবি: প্রথম আলো

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার, কথার সরকার। যে কথাগুলো দিয়েছি, সেগুলো পালন করার চেষ্টা করছি।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে ভাগ করে রুহিয়া উপজেলা করতে ভূমিকা রাখায় আজ বুধবার বেলা একটার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংবর্ধনা দেন উপজেলাবাসী। রুহিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনাব তারেক রহমানের সরকার, কথার সরকার। যে কথাগুলো দিয়েছি, সেগুলো পালন করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু করেছি। কৃষক কার্ডেরও কাজ শুরু হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। অন্যান্য যেসব কথা তিনি দিয়েছিলেন, তার প্রতিটি পূরণ করার জন্য কাজ শুরু করেছি।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। এই তিন মাসের মধ্যে আমাদের দেওয়া কথাগুলো রাখার চেষ্টা করেছি। আপনারা জানেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা দিয়েছিলাম, তার অনুমোদন হয়ে গেছে। ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হয়ে গেছে। কয়দিন আগে আমরা ঠাকুরগাঁও শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করেছি। মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন হয়ে গেছে, জায়গাও নির্ধারণ হয়ে গেছে। ইনশা আল্লাহ আগামী বছর থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে। বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে এখানে নিয়ে এসেছিলাম। তাঁরা বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে আমরা বিমানবন্দর চালু করতে সক্ষম হব।’

হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম-শ্রেণির মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থনে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’

তরুণ-যুবকদের উদ্দেশ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের নিজেদের তৈরি করতে হবে। আজ দুঃখ হয়, যখন শুনি, আমাদের তরুণ-যুবকেরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। মাদক একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেয়, এর থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। আমি তরুণদের কাছে আবেদন জানাব, তাঁরা যেন মাদক থেকে মুক্ত থাকেন এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তরুণ-যুবকদের অনুরোধ জানাব খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য। এই নতুন উপজেলা হওয়াতে সুযোগ এসেছে এখানে। একটা নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে হবে, নেতৃত্বের বিকাশ করতে হবে। তাহলেই শুধু রুহিয়া উপজেলা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ মহেবুল্লাহ আবনুর, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে ভূল্লী উপজেলা বাস্তবায়নে অবদান রাখায় আজ বিকেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংবর্ধনা দেবেন ভূল্লী উপজেলাবাসী।