‘বীক্ষণ’ পাঠচক্রের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বীক্ষণ’ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কবি-সাহিত্যিকদের আবেগের জায়গা। অথচ এখন পাঁচ থেকে ছয়জন বিতর্কিত ব্যক্তি তাঁদের প্রভাব তৈরি ও পদের জন্য দলীয় শক্তি ব্যবহার করে জায়গাটি নষ্ট করছে। বিরোধকে রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। ময়মনসিংহের সাহিত্য কর্মীরা মুক্ত ‘বীক্ষণ’ চান।

ময়মনসিংহের একাধিক কবি-লেখকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার দশক আগে গঠিত হয় ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ। ওই সময় সংগঠনটির উদ্যোগে ‘বীক্ষণ’ নামে নিয়মিত পাঠচক্র শুরু হয়। প্রায় ৩৮ বছর ধরে কোনো বিরতি ছাড়াই প্রতি শুক্রবার এ আসর বসে। এর বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কোনো সপ্তাহে বন্ধ থাকেনি।

সাহিত্য সংসদের কমিটি নিয়ে কয়েক বছর আগে দুটি পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে আজ দুটি পক্ষ ‘বীক্ষণ’–এর ২ হাজার ২৮তম আসর পৃথকভাবে করার ঘোষণা দেয়। একটি পক্ষের পাঠচক্রের শিরোনাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও উনসত্তরের উত্তাল সময়’। অপর পক্ষ ‘সকল অসুন্দরের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর চেতনা-সংগ্রাম’ শিরোনামে আসর করে। দুটি আসরেই লেখকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আলোচক ছিলেন।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম উদ্যোক্তা কবি শামসুল ফয়েজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুটি পক্ষের আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে আজ আমি ‘‘বীক্ষণ’’ পাঠচক্রে যাইনি। সাহিত্য রচনা করার জন্য সংগঠন বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংগঠন অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সংগঠনকে ঘিরে যেন কারও কোনো ঈর্ষাকাতরতা বা দুরভিসন্ধি না থাকে। সহনশীলতা ও মুক্ত মন নিয়ে এখানে আসতে হবে। আজকে পুলিশের পাহারায় সাহিত্যের পাঠচক্র হওয়া দুঃখজনক।’