রুয়েট–কুয়েটসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছেন রিমন, ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

রিমন আলীছবি: প্রথম আলো

নিরক্ষর হয়েও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন দিনমজুর মাসুদ রানা। গৃহস্থের বাড়িতে থেকে কৃষিকাজ করতেন তিনি। রাত জেগে গৃহস্থের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করতে দেখে কখনো মেঝেতে বসে তাদের পড়া শুনতেন। তখনই নিজের দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেন। এখন সেই স্বপ্ন পূরণের পালা।

বড় ছেলে এবার ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনাসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে আর্থিক সংগতি না থাকায় তাঁর উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন মাসুদ রানা।

মাসুদ রানার বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার দক্ষিণ লালপুর গ্রামে। অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে তিনি সংসার চালান, আর তাঁর স্ত্রী গৃহিণী। তাঁদের দুই ছেলে—রিমন আলী (১৯) ও ইমরান হোসেন (১৩)। রিমন এবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন।

রিমন ২০২৩ সালে লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন নিউ ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশের শীর্ষ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন।

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কুয়েট, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়েট, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চুয়েট ও আগামী ৮ মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে। টাকার অভাবে এখনো কোথাও ভর্তি হতে পারেননি রিমন। ভর্তির পর থাকা–খাওয়ার খরচ নিয়েও আছেন দুশ্চিন্তায়।

রিমন আলী বলেন, ‘আব্বা আমাদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখে আসছেন। তাঁর এই স্বপ্নের কথা আমি সব সময় মাথায় রাখতাম। খেয়ে না খেয়ে পড়ালেখায় মনোযোগ দিয়ে আসছি। আশা করছি, একটা ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারলে আব্বার সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে। ইচ্ছা আছে, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার।’

মাসুদ রানা বলেন, গৃহস্থের সন্তানদের পড়ালেখা শিখে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখেছেন। তখন থেকে নিজেও স্বপ্ন দেখেছেন সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করবেন। সাধ্যমতো চেষ্টা করেও যাচ্ছেন। কিন্তু বাড়ির বাইরে রেখে পড়ালেখা করানোর খরচ জোগাতে পারবেন কি না, তা নিয়েই তাঁর যত চিন্তা।

রিমনের পড়াশোনায় সহায়তা করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। রাজশাহী সিটি কলেজ, একটি কোচিং প্রতিষ্ঠান এবং নিউ ডিগ্রি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বিনা বেতনে তাঁকে পড়িয়েছেন। তাঁরা বলেন, রিমনের এই অদম্য যাত্রার অংশ হতে পেরে তাঁরা গর্বিত।