ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলী আগের মতো রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। এ ছাড়া পাশের দুলাল হোসেনের বাড়িতেও ভেজাল গুড়ের কারখানা চলছে, এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে কারখানা দুটি ঘিরে রাখে র‍্যাব। সকাল ৯টায় সেখানে অভিযানে যায় ভোক্তা অধিদপ্তর। এ সময় কৃত্রিম উপায়ে ভেজাল গুড় বানানোর দায়ে কারখানা দুটিকে জরিমানা করেন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ।

এ সময় সেকেন্দার আলীর কারখানা থেকে ৫৫৫ কেজি, দুলাল হোসেনের কারখানা থেকে ৩০০ কেজিসহ মোট ৮৫৫ কেজি ভেজাল গুড় এবং উপকরণ জব্দ করা হয়। সেকেন্দারের কারখানা থেকে ৩ কেজি চুন, ১ কেজি কাপড়ের রং, দেড় কেজি ফিটকিরি, ৪ কেজি ডালডা, ৪৫০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়। সেগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

প্রথমে সেকেন্দার আলীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ এবং পরে দুলাল হোসেনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিদপ্তর। প্রতি কেজি ৮৫ টাকা হিসাবে কারখানা দুটি থেকে জব্দ করা ৮৫৫ কেজি গুড়ের বাজারমূল্য ৭২ হাজার ২৫০ টাকা।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট র‍্যাবের সহযোগিতায় সেকেন্দার আলীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং ৭০০ কেজি ভেজাল গুড় ও উপকরণ ধ্বংস করেন ভোক্তা অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ।

হাসান-আল-মারুফ প্রথম আলোকে বলেন, বেশি মুনাফার আশায় বিষাক্ত রাসায়নিক, চিনি, চুন, ফিটকিরি, হাইড্রোজ ও রং মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করার অপরাধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কারখানামালিক সেকেন্দার আলী ও দুলাল হোসেনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভেজাল গুড় ও উপকরণ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোথাও অভিযান চালানো হলে কারখানাটি আবার চালানো হচ্ছে কি না, তাঁরা ফলোআপ করেন। তাঁদের কাছে খবর ছিল, গতবারের ধ্বংস করা গুড় খাল থেকে তুলে আবার প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। নিষেধ করার পরও পুনরায় কারখানাটি চালাচ্ছিলেন তিনি।

অভিযান চলাকালে র‍্যাব-৫-এর সদর কোম্পানি অধিনায়ক নাজলী সেলিনা ফেরদৌসী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সনজয় কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন