আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও স্বপ্নের ওপর মানুষ ভরসা রেখেছেন: জোনায়েদ সাকি

আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও স্বপ্নের ওপর মানুষ ভরসা রেখেছেন: জোনায়েদ সাকি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ৫৫ হাজার ৩৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে আসনটি জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জোনায়েদ সাকি। গত শুক্রবার রাতে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদৎ হোসেন

প্রথম আলো:

আপনার বিজয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

জোনায়েদ সাকি: আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই–সংগ্রাম করেছি। এটা বাঞ্ছারামপুরবাসীর উল্লেখযোগ্য একটা অংশ অবহিত। এ ছাড়া বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ জোট আমরা যথার্থভাবে তাদের সমন্বয় করতে পেরেছি। বিএনপি একটা বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের জনশক্তিকে সর্বোচ্চ পরিমাণে কাজে লাগানো গেছে। তাঁরা অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। আমাদের দলের নেতা–কর্মীরাও সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করেছেন। ফলে একটা ঐক্যের জায়গা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মানুষ আস্থা রেখেছেন, আমরা কাজটা ডেলিভার করতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা আমরা বলেছি। সেই জায়গাগুলোয় মানুষ ভরসা স্থাপন করেছেন এবং বিশ্বাস করেছেন।

প্রথম আলো:

ভোট নিয়ে আপনার সন্তুষ্টি কতটা?

জোনায়েদ সাকি: আমরা শুরু থেকেই আচরণবিধি মেনে জনগণকে উৎসাহিত করেছি, যাতে একটি ভোটও কেউ জালিয়াতি করতে না পরে। আমরা নিজেরাও সচেষ্ট ছিলাম এবং অন্যরাও যাতে না করতে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক ছিলাম। সত্যিকার অর্থে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জোয়ার তৈরি হয়েছিল। যেহেতু জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট। আমরা তাঁদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভোট ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি আস্থা তৈরিতে সামনে আমরা কাজ করব।

প্রথম আলো:

এই বিজয় কি শুধুই স্থানীয় সমর্থনের প্রতিফলন, নাকি জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা?

জোনায়েদ সাকি: অবশ্যই জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা বলে মনে করি। মানুষের চাওয়াটাই হচ্ছে যে রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা ও দেশের মানুষের বাস্তব জীবনে গুণগত পরিবর্তন আসুক। সেটা করার ক্ষেত্রে যাঁরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন, সে হিসেবেই তাঁরা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রথম আলো:

আপনার জয়ে বিএনপির সমর্থন কতটা ভূমিকা রেখেছে?

জোনায়েদ সাকি: বিএনপি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখানে তো বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে আমরা কাজ করেছি। বিএনপি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বলতে পারেন, বিএনপি বড় ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম আলো:

নারী ভোটারদের ভূমিকা কতটা ছিল?

জোনায়েদ সাকি: আমি মনে করি, নারী ভোটাররাই আমাদের কর্মপরিকল্পনায় বেশি আস্থাশীল হয়েছেন। যার ফলে ভোটকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনো চেষ্টাই কাজ করেনি; যদিও তাঁরা প্রভাবিত করার অনেক চেষ্টা করেছেন। বড় আকারের কোনো পরিবর্তন করতে পারেননি। মানুষের ভরসা ও আস্থার জায়গাটা অটুট থেকেছে।

প্রথম আলো:

নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন কি?

জোনায়েদ সাকি: নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের একে অপরের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে আমরা সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নগুলো তুলে ধরেছি, যাতে রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন আসে। রাজনীতি যখন লক্ষ্য–উদ্দেশ্য বা কর্মপরিকল্পনার ওপর ভর করে হবে, তখন রাজনৈতিক চর্চার মধ্যে গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং জবাবদিহি তৈরি হবে। সেটার ওপর জোর দিয়েই আমাদের গণসংযোগ ছিল।

প্রথম আলো:

বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় বা সমঝোতা কীভাবে গড়ে উঠল?

জোনায়েদ সাকি: ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়েছি। বিএনপির মতো বড় দলের স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন প্রার্থী থাকবেন। সবারই ইচ্ছা থাকবে, তাঁরা প্রার্থী হবেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁদের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা আমরা করেছি। এর মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত আমরা একটা ঐক্য তৈরি করতে পেরেছি। এটা আমাদের একটা বিশেষ কাজের জায়গা ছিল, যান্ত্রিক ব্যাপার ছিল না। তাঁদের প্রত্যেকের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পুরো পরিকল্পনাকে দাঁড় করানোর সমন্বয়টাও সফল হয়েছে।

প্রথম আলো:

প্রচারণায় অনেক সাধারণ মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

জোনায়েদ সাকি: আমরা তো আসলে জনগণের অর্থের ওপরই নির্বাচনটা করেছি। প্রতিটি স্তরেই জনগণ এই নির্বাচনে তাঁদের পকেট থেকে কিছু না কিছু পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন। সেটা একটা বড় ইতিবাচক ঘটনা।

প্রথম আলো:

সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার কাজের তালিকায় অগ্রাধিকারে কী থাকবে?

জোনায়েদ সাকি: গ্যাস–সংকট, খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা ইত্যাদিসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এর বাইরে আমাদের পরিকল্পনা নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়া। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করা উপজেলা বাঞ্ছারামপুর। তাঁরা এখানে বিরাট আকারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। একইভাবে খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা, যাঁরা স্বাবলম্বী নন, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ইত্যাদি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেব। কেবল স্থাপনার উন্নতি নয়; হয়রানি, ধর্ষণ, মাদক, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেন খুনোখুনির পর্যায়ে না যায়, সেসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেব।

প্রথম আলো:

তরুণদের কর্মসংস্থানে আপনি কী উদ্যোগ নেবেন?

জোনায়েদ সাকি: তরুণদের জন্য নানা প্রশিক্ষণ–কর্মসংস্থান, তাঁদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দক্ষ করে তোলা, যাতে তাঁরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন এবং দেশের অর্থনৈতিকসহ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।

প্রথম আলো:

সংসদে গিয়ে কোন ইস্যুগুলোকে আপনি অগ্রাধিকার দেবেন?

জোনায়েদ সাকি: জাতীয় নীতিতে আমাদের যে বক্তব্য আছে, সেগুলো করতে হবে। বাংলাদেশ পুনর্গঠনের যে সুযোগ আমাদের শহীদেরা করে দিয়েছেন, সেটি আমরা করব।

প্রথম আলো:

তরুণ প্রজন্মের জন্য আপনার বার্তা কী?

জোনায়েদ সাকি: তরুণেরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মাদক ও সব ধরনের অপরাধ থেকে নিজেকে দূরে রেখে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। অবশ্যই বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।

প্রথম আলো:

আপনাকে ধন্যবাদ।

জোনায়েদ সাকি: আপনাদেরও ধন্যবাদ।