ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে ‘প্যাট্রোলিং ফোর্স’ পৌঁছাতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘কোনো কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের পৌঁছাতে পাঁচ থেকে সাত মিনিট সময় লাগবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির প্যাট্রোলিং বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবে।’
বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন রয়েছে।
বিভাগে রয়েছে ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, একটি সিটি করপোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষের বসবাস। বিশাল এ অঞ্চলে চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬। এর মধ্যে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ২৮৭টি, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার জানান, বিভাগের পাঁচটি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও সেখানে যেতে পারবে। সীমান্ত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিও রয়েছে। সীমান্ত এলাকা নিয়ে কোনো হুমকি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর চরাঞ্চলে এরই মধ্যে সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করেছে বলেও বিভাগীয় কমিশনার জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ উদ্ধার করেছে বিভিন্ন ধরনের ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র। একই সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৯৪টি। নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার জানান, নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ১০ হাজার, বিজিবি ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশ ১৩ হাজার ৭৯৬, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ২ হাজার ৪০৫, র্যাব ১ হাজার ৬, আনসার ৭২ হাজার ৭৩৬ জন। প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি ভোটকেন্দ্রেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য থাকবে।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি–ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল কাজ শুরু করেছে, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেলও কার্যক্রম চালাবে। প্রতিদিন তিন-চারবার নির্বাচনের হালনাগাদ তথ্য পিআইডির মাধ্যমে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো হবে।
আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে রাজশাহী জেলার ভোটের সরঞ্জাম প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ অন্যরা কেন্দ্রে নেওয়া শুরু করেছেন। নগরের মাদ্রাসা মাঠ থেকে সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।