নিহত ওই মেয়ের নাম প্রিয়া বিশ্বাস (২০)। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউনিয়নের বাঁশকোটা গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে। গত ৪ অক্টোবর শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেছিলেন, ওই গৃহবধূ স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রিয়াকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করেছেন।

মানববন্ধনে জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি মমতাজ বেগম বলেন, ‘আর কত দিন আমাদের মেয়েদের এভাবে যৌতুকের দাবিতে মরতে হবে? দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এসব ঘটনা বছর বছর চলতে থাকবে। আর প্রিয়াদের এভাবে জীবন দিয়ে যেতে হবে।’

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৭ জুন শ্রীপুর উপজেলার বালেঘাটা গ্রামের সুকুমার বিশ্বাসের ছেলে সজীব বিশ্বাসের (২৪) সঙ্গে প্রিয়ার বিয়ে হয়। দুই মাস আগে গত দুর্গাপূজায় একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য শ্বশুরবাড়িতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সজীব। এ জন্য তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতনও করেন। পরে প্রিয়ার বাবা সজীবকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য চার লাখ টাকা দেন। বাকি এক লাখ টাকার জন্য প্রিয়াকে নির্যাতন করতে থাকেন সজীব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যে ৪ অক্টোবর সজীবের বাড়ি থেকে প্রিয়ার বাবাকে মুঠোফোনে জানানো হয়, তাঁর মেয়ে স্ট্রোক করেছেন। ওই দিন সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মেয়েকে মৃত অবস্থায় পান মনোরঞ্জন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতের গলায় দাগ ছিল বলে দাবি স্বজনদের।

খবর পেয়ে পুলিশ ওই দিন সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্বামী সজীব ও তাঁর বাবা-মাকে আটক করে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠায়। পরে ১১ অক্টোবর নিহতের বাবা বাদী জামাতা সজীব ও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আসামি করে শ্রীপুর আমলি আদালতে হত্যা মামলা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিহতের স্বামী সজীব বিশ্বাসের বাবা সুকুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলাটি তদন্ত করছেন ঝিনাইদহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিকাইল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্তের ফলাফল এখনো আসেনি। সেটা পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ঘটনার বিষয়ে বাদীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে বিবাদীদের এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।