স্ত্রীকে বাসায় ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

ঢাকার সাভারের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জের ধরে ওই নারীকে তাঁর স্বামী হত্যা করেন বলে দাবি প্রতিবেশী ও স্বজনদের। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে আটক করেছে সাভার মডেল থানার পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কোহিনুর বেগম (৪০) কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার পাঠানবাড়ী এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। স্বামী হাফিজুর রহমান (৩১) রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার অলঙ্কারপুর গ্রামের মতি মাস্টারের ছেলে। হাফিজুর সাভারের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় নিটিং অপারেটর হিসেবে কাজ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বিয়ে করেন কোহিনুর বেগম ও হাফিজুর রহমান। এর আগেও কোহিনুরের একটি বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাঁদের মধ্যে নানা বিষয়ে একাধিকবার বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এসবের জের ধরে কোহিনুর বেগম সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় এবং হাফিজুর রহমান সাভার পৌর এলাকায় আবদুল মজিদ খানের বাড়ির ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস শুরু করেন।

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে কোহিনুরকে বাসায় ডেকে নেন হাফিজুর। এ সময় তাঁরা আবারও কলহে জড়িয়ে পড়েন। উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে হাফিজুর ছুরি দিয়ে কোহিনুরের পেট, পিঠ, পা, মুখসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান কোহিনুর। মরদেহ লুকিয়ে রাখতে টয়লেটে নেওয়া হয়। এ সময় বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই বাসার ভাড়াটেরা হাফিজুরকে ধরে সাভার মডেল থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। আজও ঝগড়ার একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করার পর কোহিনুর বেগম মারা যান। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।