রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পদ অবনমন, সব কাজ থেকে ৫ বছরের অব্যাহতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমন করা হয়েছে। পাঁচ বছর তিনি কোনো ইনক্রিমেন্ট পাবেন না।

অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, পাঁচ বছর পর সুজন সেন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার যোগ্য হবেন। এরপর আরও চার বছর পর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাঁকে মোট ৯ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পছন্দের শিক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়া, অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুজন সেনকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগের সভাপতির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ সংযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দেন তাঁরা।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের জরুরি একাডেমিক সভায় এসব অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সুজন সেনকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে কমিটি তাঁর আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়।

পরে সুজন সেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাবেক সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেট সভায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।