শরীয়তপুরে বসতঘরে ককটেল বিস্ফোরণ, আধা কিলোমিটার দূরে জমিতে রক্তাক্ত লাশ
শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে সোহান ব্যাপারী (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জাজিরা থানার পুলিশ সদস্যরা সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন।
নিহত সোহান ওই ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দী গ্রামের দেলোয়ার ব্যাপারীর ছেলে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ব্যাপারীকান্দী গ্রামের একটি বাড়িতে। আর তাঁর লাশ পাওয়া গেছে আধা কিলোমিটার দূরে সাতঘরিয়াকান্দি গ্রামে ফসলি জমিতে।
সোহানের পরিবারের সদস্যরা জানান, এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে সোহানের নামে মামলা হয়েছিল। তিনি রাতে সাধারণত বাড়িতে থাকতেন না। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। আজ সকালে ফসলি জমি থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া গেছে।
এ সম্পর্কে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভোরে সাতঘরিয়াকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘরে বোমা ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ছিল। দূরে ফসলি জমিতে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে এবং ওই ব্যক্তির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
নিহত সোহান ব্যাপারীর বোন মাজেদা আক্তার বলেন, স্থানীয় নাসির ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের বিরোধ চলছিল। তাঁর নামে মামলা থাকায় বাড়িতে থাকতে পারতেন না। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে পালিয়ে থাকতেন। গতকাল রাত ১১টার দিকে সোহান বাড়ি থেকে বের হন। আজ সকালে ফসলি জমিতে তাঁর লাশ পড়ে থাকার কথা জেনে ছুটে এসেছেন।
এর আগে গত রোববার জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাবেদ শেখ (২০) নামে একজন আহত হন।
জাজিরা থানা সূত্র জানায়, ওই বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং সংঘর্ষ হলেই দুই পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর বিলাশপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার পর পুলিশ কুদ্দুস ব্যাপারী, আবদুল জলিল মাতবরসহ তাঁদের বেশ কয়েকজন সমর্থকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে। ওই মামলায় আবদুল জলিল মাতবর বর্তমানে কারাগারে। আর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁদের সমর্থক মান্নান ব্যাপারী ও নাসির ব্যাপারীর লোকজন নতুন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মান্নান ব্যাপারী কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক এবং নাসির ব্যাপারী আবদুল জলিল মাতবরের সমর্থক।