এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে এই বাণিজ্যকেন্দ্র। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।  কিন্তু মাসুদের মৃত্যুর পর শ্রমিকেরা সকাল থেকেই সড়কে অবস্থান নেন। ঘটনার বিচার দাবি করেন।

কর্মসূচির বিষয়ে বৃহত্তর খাতুনগঞ্জ মালামাল লোডিং-আনলোডিং শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আবদুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার দুপুরে মো. মাসুদের সঙ্গে তর্কে জড়ান মো. রাসেল নামের এক পিকআপচালক। পরে সন্ধ্যার দিকে মাসুদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রাসেলের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছিল। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় রাসেলকে এক নম্বর আসামি করে মামলা করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকেরা।

আবদুল কাদির আরও বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সমিতির আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাসেলসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না গেলে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মোহাম্মদ আকতার নামের এক শ্রমিকনেতা প্রথম আলোকে বলেন, মাসুদের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। কোনো টালবাহানা চলবে না। রাসেলসহ অন্যদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকবে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। যেকোনো সময় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বেচাকেনা হয়। এখানকার প্রায় দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব পণ্য সারা দেশে যায়। ভোজ্যতেল, চিনি, গম, ডাল, মসলা ও কাঁচা পণ্য থেকে শুরু করে রাসায়নিক, ঢেউটিন, রংসহ নানা ধরনের পণ্য বেচাকেনা হয়।

আমদানি করা চালও বিক্রি হয় এ বাজারে। তবে চালের মূল আড়ত খাতুনগঞ্জের পাশে চাক্তাই বাণিজ্যকেন্দ্রে। খাতুনগঞ্জ ও আশপাশের বাণিজ্যকেন্দ্র মিলিয়ে পাঁচ হাজারের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।