সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর থাকার কথা, পরে কেন বদলাল সফরসূচি

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল মঙ্গলবার। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে অতিথির তালিকায় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নাম আছে। মন্ত্রীর সফরসূচিতেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে যায় সেই সূচি। পরিমার্জিত সফরসূচিতে বলা হয়, মন্ত্রী সিলেটে এলেও ওই অনুষ্ঠানে থাকবেন না।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সিউকের অনুষ্ঠানে না থাকার বিষয়টি এখন স্থানীয় বিএনপির ভেতরে-বাইরে আলোচিত হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রের ভাষ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির তালিকায় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে আসছেন না। এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘রাজনৈতিক দূরত্বের’ বিষয়টি।

যোগাযোগ করলে আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে ঢাকায় আমার একটা জরুরি কর্মসূচি আছে। সেটা শেষ করে সিলেটে আসব। পরে সুনামগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন-বিষয়ক একটা জরুরি মতবিনিময় সভা রয়েছে। যেহেতু দূরের জেলা সুনামগঞ্জ যেতে হবে, তাই সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। এটাই সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার কারণ। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।’

এদিকে সিউকের আমন্ত্রণপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা একটায় সিউকের কার্যক্রম ও কার্যালয়ের উদ্বোধন হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণপত্রে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাম উল্লেখ রয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

এর বাইরে আমন্ত্রণপত্রে নাম না থাকলেও অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমকে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে গতকাল রোববার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে মন্ত্রীর একান্ত সচিব বিজন কুমার সিংহের সই করা একটি সফরসূচি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি সংশোধন করে রাত ৯টা ৫ মিনিটে আরেকটি সফরসূচি পাঠানো হয়। এ দুটি সফরসূচি ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রথমটিতে মন্ত্রী সিউকের কার্যক্রম ও কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে উল্লেখ করা আছে। পরের সফরসূচির তালিকা থেকে এটি বাদ দেওয়া হয়।

সিলেট বিএনপিতে প্রকাশ্যে বিভেদ না দেখালেও আড়ালে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর দুটি পৃথক বলয় রয়েছে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় ক্ষমতার বলয় নিয়ন্ত্রণে নিতে উভয় পক্ষই তৎপর ছিল।

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট বিএনপিতে প্রকাশ্যে বিভেদ না দেখালেও আড়ালে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর দুটি পৃথক বলয় রয়েছে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় ক্ষমতার বলয় নিয়ন্ত্রণে নিতে উভয় পক্ষই তৎপর ছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে উভয়েই সংসদ সদস্যের পাশাপাশি মন্ত্রী হন। এ অবস্থায় উভয় বলয়ে ‘মনস্তাত্বিক দূরত্ব’ বাড়ার পাশাপাশি ‘ঠান্ডা লড়াই’ চলছে।

একই সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে এ আসনটিতে প্রার্থী করা হয় খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে। অন্যদিকে আরিফুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয় সিলেট-৪ আসনে। উভয়ে নির্বাচিতও হন। এর পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্যের পাল্লা বাড়াতে উভয় নেতার বলয় সক্রিয় হয়।

ওনাকে (আরিফুল হক) যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে প্রটোকল অনুযায়ীই অতিথি করা হয়েছে। সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি কল করে অনুষ্ঠানে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সফরসূচি বদলেছে কি না, সেটা আমার জানা নেই।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিউকের চেয়ারম্যান

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী স্থানীয় রাজনীতিতে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। যোগাযোগ করলে মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত এই সভাপতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওনাকে (আরিফুল হক) যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে প্রটোকল অনুযায়ীই অতিথি করা হয়েছে। আমি নিজে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ওনাকে দাওয়াত দিয়েছি। সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি কল করে অনুষ্ঠানে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। ওনার সফরসূচিতেও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সফরসূচি বদলেছে কি না, সেটা আমার জানা নেই। আমি তো এখনো জানি, তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।’