মাচায় চালকুমড়া, মাটিতে আলু—একই জমিতে দুই ফসলে বাড়ছে আয়

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পুটিমারী এলাকায় একই জমিতে আলুর সঙ্গে মাচায় চালকুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরাছবি: প্রথম আলো

মাচার ওপর লতিয়ে উঠেছে চালকুমড়ার সবুজ ডগা। আর নিচে মাটিতে সারি সারি আলু। একই জমিতে এমন ভিন্নধর্মী চাষাবাদের দেখা মেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকায়।

শুধু পুটিমারী নয়, আশপাশের অনেক খেতেই ছড়িয়ে পড়েছে এই পদ্ধতি। জমির জায়গা ফাঁকা না রেখে এমন পদ্ধতিতে চাষ করে বাড়তি ফলন ও লাভ পাচ্ছেন কৃষকেরা।

ঠাকুরগাঁও–ভাউলারহাট সড়কের পাশে পুটিমারী গ্রামে নারী শ্রমিকদের নিয়ে খেত থেকে আলু তুলছিলেন কৃষক আসাদুল ইসলাম (৫০)। তাঁদের মাথার ওপর মাচাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল চালকুমড়ার লকলকে ডগা। কথা হলে আসাদুল বলেন, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছেন। আলুগাছ একটু বড় হলে সারির মাঝখানে চালকুমড়ার চারা লাগিয়ে দেন। চারাগুলো কিছুটা বড় হলে খেতের চারপাশে খুঁটি পুঁতে বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর লম্বালম্বি করে নাইলনের সুতা বেঁধে তৈরি করা হয় মাচা।

এই কৃষক বলেন,এক বিঘা জমিতে প্রথমবার মাচা তৈরি করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে পরের বছর খরচ কমে অর্ধেক হয়ে যায়। একবার মাচা তৈরি করলে চার থেকে পাঁচ বছর ব্যবহার করা যায়।

আসাদুলের ভাষ্য, অগ্রহায়ণ মাসের মাঝামাঝি আলু রোপণ করা হয়। প্রায় এক মাস পর আলুর সারির মাঝে চালকুমড়ার চারা লাগানো হয়। পরে মাচা তৈরি করা হয়। ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি আলু তুলে নেওয়ার পর মাচাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চালকুমড়ার লতা। কিছুদিনের মধ্যেই গাছে ফুল ও ফল আসে।

গত বছর আলুর দাম না পাওয়ায় এবার আলুর সঙ্গে চালকুমড়া চাষের কথা ভাবেন আসাদুল। তিনি বলেন, এক কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ টাকা, কিন্তু বিক্রি করতে হয়েছে ১০ টাকায়। তবে চালকুমড়া সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেবে। তাঁর আশা, চালকুমড়া বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হবে।

আসাদুলের পাশের জমিতে দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছেন সাইদুর রহমান (৬০)। তিনিও একই পদ্ধতিতে মাচায় চালকুমড়া লাগিয়েছেন। তাঁর গাছে ইতিমধ্যে হলদে ফুল এসেছে।

সাইদুর বলেন, আর দুই–এক দিনের মধ্যে আলু তোলা শুরু হবে। এর পর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চালকুমড়া তুলতে পারবেন। দেড় বিঘা জমি থেকে এক দফায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজারটি চালকুমড়া পাওয়া যেতে পারে। এভাবে ১২ থেকে ১৪ বার চালকুমড়া তোলার আশা করছেন তিনি।

রায়পুর গ্রামের কৃষক সুরেশ রায় (৪৮) বলেন, তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। আলু তোলার পর এখন মাচায় চালকুমড়া আছে। চালকুমড়া শেষ হলে সেখানে লাউয়ের চারা লাগানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আলমগীর কবির বলেন, আলুর সঙ্গে মাচায় চালকুমড়া চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে তাদের আয়ও বাড়ছে। কৃষকদের সাথি ফসল চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।