স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটকৃষ্ণপুর বাজারের নিয়ন্ত্রণ এবং ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আকতারুজ্জামানের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলে আসছিল। এই দুজন এলাকায় নিজস্ব দুটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। মাঝেমধ্যে এ দুই বাহিনী মারামারিতে জড়ায়।

গিয়াস তালুকদার এলাকার আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে কখনো আকতারুজ্জামান, আবার কখনো বিল্লাল ফকিরের হয়ে কাজ করেন। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি (গিয়াস) আকতারুজ্জামানের হয়ে কাজ করেন। সম্প্রতি তিনি পক্ষ পরিবর্তন করে বিল্লাল ফকিরের সঙ্গে যোগ দেন।

ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আজ দুপুরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে গিয়াস তালুকদার মারা গেছেন—এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে বিল্লাল ফকিরের সমর্থকেরা যাত্রাবাড়ী, নিজগ্রামসহ আশপাশের গ্রামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। গ্রামগুলোয় আকতারুজ্জামানের সমর্থকদের বসবাস। পরে আকতারুজ্জামানের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময়ও বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পরে সদরপুর থানার পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিল্লাল ফকির বলেন, গিয়াস আজ বেলা একটার দিকে ঢাকা থেকে সদরপুর আসছিলেন। পথে ঠেঙ্গামারী এলাকায় ইজিবাইক থামিয়ে গিয়াসকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কবজি কেটে নিয়ে যায় আকরুজ্জামানের লোকজন। এ সময় হামলাকারীরা গিয়াসের দুই চোখ সোডা দিয়ে ঘষে নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে একটি রিকশাভ্যানে উঠিয়ে দেয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় গিয়াসকে প্রথমে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসিফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, গিয়াস তালুকদারকে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে আকতারুজ্জামান বলেন, বিল্লাল ফকিরের সমর্থকেরা আজ বেলা দুইটার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের গ্রামে তাঁর সমর্থকদের ১৪ থেকে ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় আটটি গরু লুট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। গিয়াসের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আকতারুজ্জামান বলেন, ‘তিনি (গিয়াস) বিপক্ষ দলের সমর্থক, তিনি কোপ খাইতেই পারেন।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, সময়মতো পুলিশ উপস্থিত হওয়ার কারণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, আহত হওয়া ও  লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটতে পারেনি।