মৌসুমে আদিত্যের কারখানাটিতে মোট ১৫ জন কাজ করেন। তাঁদের বেতন মাসে ৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কর্মচারী তিন থেকে চারজন। কর্মচারীদের সঙ্গে আদিত্য নিজেও কাজ করেন। তাঁকে সহযোগিতা করে তাঁর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে শ্রাবণ আচার্য্য।

সম্প্রতি কারখানাটিতে আদিত্য আচার্য্যের সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি বাবা রঞ্জিত আচার্য্যের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির জন্য হাতে মাটি তুলে নেন। প্রথমে মাটি মাখার কাজ করতেন। কয়েক দিন সেই কাজ করার পর তাঁকে কাঠের স্ট্রাকচার তৈরি করতে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে খড়ের বেণি তৈরি, তার ওপর মাটির প্রলেপ দেওয়া, অবয়ব তৈরি করা, ফিনিশিং দেওয়া, প্রতিমা রং করা, পোশাক পরানো, গয়না লাগানো ও সবার শেষে চক্ষুদানের কাজ শেখেন। কয়েকটি ধাপ জানলেই প্রতিমা তৈরির পূর্ণাঙ্গ কারিগর হয়ে ওঠে যেকোনো ব্যক্তি।

default-image

আদিত্য আচার্য্য বলেন, বাবার মৃত্যুর পর প্রতিমা তৈরির কারখানাটি তিনি নিজেই চালানো শুরু করেন। তখন সঙ্গে তাঁর ভাই যুগল আচার্য্য তাঁকে সহযোগিতা করতেন। একপর্যায়ে দুই ভাই পৃথকভাবে কারখানা গড়ে তোলেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডের মহান্ত আস্তানার পাশে ননী গোপাল সাহা যাত্রী নিবাসের নিচতলায় অস্থায়ী কারখানায় দুজন কারিগর কাজ করছেন। তাঁরা সেখানে ছোট-বড় ৪০টি প্রতিমায় চুল ও গয়না পরানোর কাজ করছেন। ১০০ গজ উত্তর পাশে মূল কারখানায় কাজ করছিলেন চারজন কারিগর। তাঁদের একজন প্রতিমার পরনের কাপড় পরাচ্ছিলেন। অন্য তিনজন গোছাচ্ছিলেন চুল।

আদিত্য আচার্য্য প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর তিনি ২৫টি মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির ফরমাশ পেয়েছেন। সীতাকুণ্ডের সবচেয়ে বড় প্যান্ডেলে তাঁর প্রতিমা যাবে। ওই প্যান্ডেলে নবদুর্গাসহ (দুর্গার ৯টি রূপ) মূল প্রতিমা যাবে। প্রতিমাটির দাম আড়াই লাখ টাকা। এ ছাড়া সর্বনিম্ন প্রতিমাটি ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিমার অবয়ব তৈরি শেষ হয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিমার কাজ শেষের দিকে।

আদিত্য আক্ষেপ করে বলেন, বছরের পর বছর এ শিল্প নিয়ে কাজ করলেও তাঁরা কোনো ব্যাংকঋণ–সুবিধা পান না। সব সময় তাঁর ঋণ লাগে না। কিন্তু যখন ঋণ প্রয়োজন হয়, তখন চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন