মানিকগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা

হত্যাপ্রতীকী ছবি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়ায় নুরজাহান বেগম (৫৫) নামের এক নারীকে শ্বাস রোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর মেয়ে বাদী হয়ে মোশাররফ হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। গ্রেপ্তার মোশাররফ সদর উপজেলার পৌলি গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে। তিনি রডমিস্ত্রির (নির্মাণশ্রমিক) কাজ করতেন। নিহত নুরজাহান পৌলি এলাকার প্রয়াত আবুল খায়েরের স্ত্রী। একমাত্র সন্তান কাজল আক্তারের বিয়ের পর ঢাকার ধামরাইয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। বাড়িতে নুরজাহান একাই থাকতেন। তিনি বাড়ির পাশে চা-পানের দোকান চালাতেন।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার নুরজাহানের মেয়ে কাজল মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু মাকে মুঠোফোনে না পেয়ে মেয়ে কাজল বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে প্রতিবেশীরা কাজলকে জানান, নুরজাহানের ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাজল স্বামীর বাড়ি থেকে মায়ের বাড়িতে এসে তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে মেঝেতে মায়ের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় আজ সকালে নিহত নারীর মেয়ে কাজল রেখা মোশাররফকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক মাসুদ মুন্সী প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেলে আসামি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, নুরজাহানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মোশাররফ। নূরজাহান বকেয়া বাড়িভাড়া এবং দোকানে চা-পানের বকেয়া টাকার জন্য মোশাররফকে চাপ দিতেন। এ ছাড়া দাম্পত্য বিরোধে স্ত্রী চলে যাওয়ায় জনসমক্ষে অপমানজনক মন্তব্য করায় নুরজাহানের প্রতি ক্ষুব্ধ হন মোশাররফ। পরে তিনি ওড়না দিয়ে শ্বাস রোধ করে ওই নারীকে হত্যা করেন। আজ বিকেলে আদালতের বিচারকের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।