নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করলে আইনগত ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল(অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ দুপুরে তোলাছবি: সংগৃহীত

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট সচল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কেউ বন্ধ করলে আইনের আওতায় আনারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আজ রোববার দুপুরে নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রামে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা জানান।

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেটের ব্যবহার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো এটা খোলা থাকবে। ইন্টারনেট যদি কেউ বন্ধ করে, আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক পুরোনো শব্দ। কিছু কিছু শব্দ আছে যেগুলো সব সময় ব্যবহার হয়। কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল, কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল না। কিন্তু আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে।’

নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সময় যে সহিংসতাগুলো হচ্ছে, তার অনেকটাই নিজেদের দলের ভেতরেই। একই দল বা একই সংগঠনের ভেতরের দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে যে মাত্রার স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে, বিগত আমলে তা ছিল না বলেও মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফেসবুক বা ইন্টারনেট বন্ধ করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই স্বাধীনভাবে লিখবেন, মত প্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকেরাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না। এখন সেই পরিবেশ বদলে গেছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের মুখ একেবারে খোলা। সত্যি কথা প্রকাশ করার জন্যই তো আপনারা। আপনারা যদি সত্য তথ্য প্রকাশ করতে না পারেন, জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করুক, সত্য কথা বলুক।’

সভায় স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।