সৈকতে বসে সাগরের ঢেউ দেখতে দেখতে ইফতার
লম্বা একটি টেবিলে সাজানো পেঁয়াজি, জিলাপি, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, স্যুপ, কাবাবসহ নানা পদের ইফতার। টেবিলের চারদিকে চেয়ারে বসে আজানের অপেক্ষায় ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ শিশু। পাশের আরও কয়েকটি টেবিলেও ইফতার নিয়ে বসে আছেন পর্যটকেরা। রেস্তোরাঁর টেবিল পাতা রয়েছে যেখানে তার অদূরেই সৈকতে ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে। সেদিকে তাকিয়ে প্রশান্তিতে মন ভরে ওঠে রোজাদারদের। এমন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে দেখতে ইফতারের সুযোগ মিলবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের প্যাঁচার দ্বীপ সৈকতের পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম পল্লি ‘মারমেইড বিচ রিসোর্টে’।
গতকাল শুক্রবার বেশ কয়েক শ পর্যটক ভিড় করেছিলেন মারমেইডের বড়সড় তিনটি পৃথক রেস্তোরাঁয়। রিসোর্টের ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল সুইমিংপুল, খোলা মাঠ আর সৈকতে চেয়ার–টেবিল পেতে করা হয়েছে ইফতার আয়োজন।
কক্সবাজার শহর ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুপাশে তারকা মানের হোটেল-রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ আছে ৩০টির বেশি। সব কটি হোটেল-রেস্তোরাঁতে মাহে রমজানের বিশেষ ইফতারের আয়োজন আছে। কিন্তু বেশির ভাগ পর্যটকের নজর থাকে মারমেইডে।
জানতে চাইলে কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, মারমেইডের অবস্থান নির্জন সৈকত তীরে এবং সেখানে ইকো ট্যুরিজম পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। খাবারের মানও ভালো। মানুষ পরিবার–পরিজন নিয়ে সুন্দর পরিবেশে ইফতার সারতে পছন্দ করেন।
মারমেইড রিসোর্টে শুক্রবারের বুফে ইফতারে ২২০ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন বলে জানান রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ইয়াসির আরাফাত। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, শুক্রবার ১২ জন বিদেশিসহ ১৩৫ জন পর্যটক এসেছিলেন ইফতার করতে। বাকিরা কক্সবাজার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা। স্বাস্থ্যসম্মত, উন্নত মানের খাবার আর সাগরের খোলামেলা প্রান্তরের টানে সবাই এখানে ছুটে আসেন বলে তিনি জানান।
২৫ পদের বাহারি ইফতার
মারমেইডের ‘রামাদান স্পেশাল বুফে ইফতার’ সাজানো হয়েছে ২৫টি পদ দিয়ে। মাথাপিছু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। তবে কাপলদের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা ছাড় দিয়ে রাখা হয় ১ হাজার ২০০ টাকা করে।
বুফের বিভিন্ন পদের মধ্যে রয়েছে তেঁতুল, পেঁপে, লেবু, কমলাসহ বিভিন্ন ফলের জুস। মুড়ি, পেঁয়াজি, বেগুনি, পিৎজা রোল, শামি কাবাব, চিকেন ও বিফ হালিম, চিকেন কর্নস্যুপ, ভেজিটেবল চাওমিন, চিকেন লিভার শিঙাড়া, হালুয়া ছিল মেনুতে। রেস্তোরাঁর এক কোনায় ভাপা পিঠা ও চালের জিলাপিও তৈরি হচ্ছিল। পর্যটকেরা লাইনে দাঁড়িয়ে প্লেটে ভাপা পিঠা ও জিলাপি তুলে নেন। ইফতারে পর চলে চা-কফি সঙ্গে জম্পেশ আড্ডা আর বালুচরে ছবি তোলার হিড়িক। এর মধ্যেই তৈরি আরও এক দফা খাবার। মূলত ডিনার। সামুদ্রিক মাছ, মাংস, সবজি দিয়ে তৈরি হয়েছে ডিনারের মেনু।
তুরস্কের নাগরিক আদনান এই পরিবেশে ইফতার করতে এসে মুগ্ধ। তিনি বলেন, মারমেইডের ইফতার তাঁদের অন্য রকম মনে হয়েছে, পরিবেশটা খুব ভালো, মনোমুগ্ধকর। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, জিলাপি তৈরি চোখের সামনে দেখে ভালো লেগেছে।
নির্জন সৈকতে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে ইফতার করার অভিজ্ঞতা এই প্রথম বলে জানান ঢাকার পর্যটক লুৎফুন নেছা। তিনি বলেন, দুই দিনের জন্য তাঁরা কক্সবাজার আসেন। ওঠেন মারমেইডের একটি কটেজে। বিশেষ ছাড়ে থাকার সুযোগ, আবার বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের সঙ্গে উন্মুক্ত পরিবেশে ইফতারের আয়োজন নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক। ভ্রমণও সার্থক হয়েছে।