রাকসু নির্বাচনে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনসহ ৩ দাবিতে গণ–অনশন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে একাডেমিক ভবনে স্থাপনসহ তিন দফা দাবিতে গণ–অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
নেতা–কর্মীদের অন্য দাবিগুলো হলো, সাইবার বুলিং রোধে একটি কার্যকর সেল গঠন করতে হবে এবং ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের গ্রুপসহ অনলাইনে ‘অপপ্রচার’ চালানো বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ বন্ধ করতে হবে, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে হামলা ও বিভিন্ন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ব্যক্তিদের ভোটাধিকার বাতিল করতে হবে এবং ছবিসহ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে উল্লেখ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, ‘আমরা সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রাহ্য না করে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, হল থেকে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করে একাডেমিক ভবনে নিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের দাবি আদায় হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণ–অনশন চলবে। প্রয়োজনে এই ক্যাম্পাস থেকে আমাদের লাশ বের হবে। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠব না।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘আজ আমরা তিন দফা দাবি নিয়ে এখানে বসেছি। আগেও আমরা রাকসুর অংশীজনেরা নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসছি ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে করা হোক। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, প্রায় সব অংশীজনের জোরালো আপত্তি সত্ত্বেও তারা নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। এর প্রতিবাদে আমাদের এই কর্মসূচি।’
অনশনে বসা অন্য নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া (শুভ), ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কোষাধ্যক্ষ কাইসার আহমেদ, ছাত্র ফেডারেশনের সদস্যসচিব ওয়াজিদ শিশির প্রমুখ।