দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার স্থানীয় এক আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে শাকিরুজ্জামানের মুঠোফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং ফাঁস হয়। ওই অডিওতে শাকিরুজ্জামান সংসদ সদস্যকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সংসদ সদস্যের অনুসারীরা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন।

এ ঘটনার জেরে গতকাল রাত আটটার দিকে সংসদ সদস্যের অনুসারী নেতা-কর্মীরা শাকিরুজ্জামানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এদিকে শাকিরুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করার খবরে তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই কার্যালয় থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং শাকিরুজ্জামানকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও সংসদ সদস্যের ভাতিজা শেখ মোহাম্মদ নুরুন্নবী প্রথম আলোকে বলেন, ওই চেয়ারম্যান সস্ত্রাসী কায়দায় অবৈধ উপায়ে কালোটাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন। সেই টাকার জোরে তিনি সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। সম্প্রতি ওই চেয়ারম্যান ১১ কোটি টাকার একটি রাস্তার কাজ পান। নিয়মনীতি না মেনে নিম্নমানের কাজ করছেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন সংসদ সদস্যকে জানান। পরে সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কাজ ভালোভাবে তদারক করতে বলেন। এই কারণে ওই চেয়ারম্যান ক্ষেপে যান এবং সংসদ সদস্যকে নিয়ে নানা রকম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সংসদ সদস্যকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। এসব কারণে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ওই চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।

তবে চেয়ারম্যান মো. শাকিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমপিকে নিয়ে আমি কখনোই আপত্তিকর মন্তব্য করিনি। স্থানীয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন। গত রাতে এমপির লোকজন আমার ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বাজে ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। আমার একজন লোককে মারধর করেছেন। পরে পুলিশ আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে।’

সড়কের কাজে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে শাকিরুজ্জামান বলেন, ‘যেখানে আমি রাস্তার কাজই শুরু করিনি। সেখানে নিম্নমানের কাজ করার প্রশ্নই উঠে না। সত্যি কথা হলো, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনাও আমার বেশি। যাতে আমি ওই পদে না যেতে পারি সে কারণে এমপির লোকজন এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমার যদি কালোটাকা থাকে ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি, তাহলে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক।’

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) রাকিবুল হাসান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ঢুকলে একটি পক্ষ সেখানে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে ওই চেয়ারম্যানের অনুসারীরাও অবস্থান নেন। তবে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় কিছু লাঠি ও দেশি অস্ত্র পুলিশ জব্দ করেছে। তবে লাঠি ও দেশি অস্ত্রগুলো কোন পক্ষের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে, ওই বিষয়ে রাকিবুল হাসান কিছু বলেননি।