শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় নির্মাণশ্রমিককে পিটুনি, তিন দিন পর মৃত্যু

আকরাম হোসেনের মরদেহ বাড়িতে এলে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী মধ্যপাড়া এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা পিটুনিতে আহত আকরাম হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আজ সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর ডেলটা কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আকরাম পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় তিনি পিটুনির শিকার হন। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক অমিতাভ চৌধুরী বলেন, গতকাল মামলাটি দায়ের করা হয়। আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় শুক্রবার সকালে বরমী মধ্যপাড়া এলাকার মো. কবির, মাহবুব মিয়া, মরজিনা বেগমসহ কয়েকজন মিলে আকরাম হোসেনসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। আকরামের পরিবারের ওপর হামলার সময় স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের থামিয়ে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পর দুপুর দুইটার দিকে আবার আকরামদের ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। এ সময় আকরামকে ব্যাপক পিটুনি দেওয়া হয়। তিনি আহত হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুরে হাসপাতালে আকরামের মৃত্যু হয়।

নিহত আকরামের স্বজন শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করার পর তাঁকেসহ অন্যদের মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। অভিযোগ দায়েরের পর বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এ সময় হামলায় আকরামসহ তিনজন আহত হন। এর মধ্যে আকরাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।