পরীক্ষা দিতে আসা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ককে মারধর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান ওরফে মাসুমকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্র-জনতা। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে।
ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান ওরফে মাসুমকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ছাত্র-জনতা। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কুমিল্লা শহরতলির ধর্মপুর এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অনার্স–ডিগ্রি শাখা ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

মাহমুদুর রহমান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে এলএলবি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে আটক করে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। মাহমুদুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছিলেন মাহমুদুর রহমান। ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন ছাত্র আন্দোলন চত্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেন তিনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যার মাস্টারমাইন্ড মাহমুদুর রহমান। বিগত ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন করে গেছেন। মাহমুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের লোহার রড দিয়ে পেটাতেন, কিন্তু আজকে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে হাত দিয়ে মারধর করেছে। এটা কিছুই হয়নি। তাঁকে আরও পেটানোর দরকার ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিতে শুক্রবার সকালে মাহমুদুর রহমান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে তাঁকে আটক করে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে মাহমুদুর রহমানের পরনের জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়। খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা এসে তাঁকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময়ও তাঁকে মারধর করা হয়। পরে খালি গায়ে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে এলএলবি দিতে এলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। মাহমুদুর রহমান এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।