কর পরিহার, কর জালিয়াতি ও নানা ফন্দিফিকির বন্ধ করা হবে: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের সৌজন্যে গতকাল রোববার রাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরছবি: প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে বাংলাদেশের কর-জিডিপির হার দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীতেও সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ করব। কর পরিহার, কর জালিয়াতি ও নানা ফন্দিফিকির বন্ধ করা হবে।’

গতকাল রোববার রাতে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের সৌজন্যে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, করব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর বিভাগ, শুল্ক বিভাগ ও মূল্য সংযোজন কর—এই তিন খাতে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সরকার অপচয়, কর জালিয়াতি ও কর পরিহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য ভিত্তির করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে টাস্কফোর্সগুলো কাজ শুরু করেছে। আগামী বাজেটে পথনকশা থাকবে যে কর-জিডিপির হার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ঋণের ভারে ন্যুব্জ। এই পরিস্থিতি থেকে একদিন বেরিয়ে আসব। আমরা অভ্যন্তরীণ ঋণ আর করব না। পতিত সরকার ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে গেছে। অনেকে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, কিন্তু অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে? আমি তাদের বলব, আমাদের অর্থ ও পরিকল্পনা সেভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে।’

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘আমরা দেখিয়ে দেব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং বিদেশি উচ্চ সুদের ঋণ থেকে মুক্ত হয়েও সম্পদ সংগ্রহ করা যায়। আমাদের সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে এবং দিন দিন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন ব্যয় অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী।