কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা প্রশাসক ইউসুফ মোল্লার

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লাছবি: প্রথম আলো

দায়িত্ব গ্রহণ করেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু)। আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লা সিটি করপোরশনের প্রশাসক (অতিরিক্ত সচিব) মো. শাহ আলমের কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিগত সময়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউসুফ মোল্লা বলেন, ‘আজ থেকে এই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছি। বিগত সময়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি  দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। ইনশা আল্লাহ আমি নীতি–নৈতিকতা এবং সততা ও আদর্শ দিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে পরিচালনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সিটি করপোরেশনকে নগরবাসীর সেবার কেন্দ্রস্থলে পরিণত করার জন্য যা যা করা দরকার, আমি সবই করব।’

প্রসঙ্গত গত শনিবার কুমিল্লাসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা।

দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইউসুফ মোল্লা আরও বলেন, ‘আপনাদের হয় দুর্নীতি ছাড়তে হবে, অন্যথায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ছেড়ে পছন্দের জায়গায় চলে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা তাঁর কর্মী হিসেবে অবশ্যই তা মাঠে বাস্তবায়ন করব। আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে দলমত–নির্বিশেষে সব ধর্ম–বর্ণের নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। আমি জনগণের সেবা করার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। আমার মাঝে যেন এই চেয়ারের কোনো অহংকার এবং অহমিকা কাজ না করে, আল্লাহর কাছে সেই ফরিয়াদ করছি।’

নগরের অন্যতম সমস্যা যানজট নিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসক বলেন, ‘ঈদের আর দুই–তিন দিন বাকি আছে। মঙ্গলবার থেকেই যানজট নিরসনে আমরা কাজ শুরু করব।’

নগরের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে প্রশাসক জানান, নগরবাসী যাতে মশারি ছাড়া ঘুমাতে পারে, সেই লক্ষ্যে আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ চারটি ওয়ার্ড চিহ্নিত করে মশকনিধন কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ড মশকমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের করের টাকায় করা উন্নয়নকাজের শতভাগ স্বচ্ছতা না থাকলে আমি কোনো বিলে স্বাক্ষর করব না। এ ছাড়া নগরের জলাবদ্ধতা এবং অন্য সমস্যাগুলো নিয়েও আমি ধারাবাহিকভাবে কাজ করব। কুমিল্লা নগরের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।’

এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সায়েম ভূইঁয়া, মো মাঈন-উদ্দিন চিশতীসহ নগর ভবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।