মাদারীপুরে কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, প্রায় ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণে শহরে আতঙ্ক

মাদারীপুরে গতকাল শুক্রবার রাতে কিশোরদের দুটি পক্ষের মধ্যে দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা-পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেনছবি: প্রথম আলো

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে টানা দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রায় ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলার সময় ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি দোকানপাট।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাদারীপুর পৌরসভার বটতলা ও জেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে দুই মাস আগে সবুজবাগ ও সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার কিশোরদের দুই পক্ষের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এর জেরে গতকাল বিকেলে সবুজবাগ এলাকার ফাহিম জমাদ্দারকে মারধর করে আহত করে জিলান, আরমান, মুবিন, সাফিনসহ তাদের পক্ষের কিশোরেরা।

এরপর রাত ৮টার দিকে আহত ফাহিমের পক্ষের অনিক ও সাঈমের সঙ্গে জিলান গ্রুপের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এ সময় প্রায় ৫০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। বটতলা এলাকার অন্তত তিনটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের ঘটনায় মাদারীপুর শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে
ছবি: প্রথম আলো

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর দুই সপ্তাহ আগেও একই স্থানে এই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিয়াম হাসান বলেন, রাত ৮টার পর সড়কে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করে উভয় পক্ষ। পরই দুই পক্ষই নিজেদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু করে। এ সময় সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি নিজে মোটরসাইকেল নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এভাবে বোমা বিস্ফোরণ ও অস্ত্রের প্রদর্শন হওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।

বটতলা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জাহিদ আকন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’