সাজেকে পর্যটক প্রবেশ ও অবস্থানে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা
নিরাপত্তার কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ ও অবস্থান বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে পর্যটন এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর আগে আজ দুপুরে সাজেকের স্থানীয় দুটি পাহাড়ি সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচির কারণে সাজেকগামী ও সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী গাড়িবহর প্রায় তিন ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি নামের দুটি সংগঠন জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে এ অবরোধের ডাক দেয়। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানান, প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরার পর সেগুলো বিবেচনার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ কারণে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন শিথিল করা হয়েছে।
তবে জেএসএসের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। ইউপিডিএফের চাপে সংগঠন দুটি সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। জেএসএসের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
জানতে চাইলে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা প্রথম আলোকে বলেন, ইউপিডিএফের চাপে কোনো সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি দেয়নি। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে দুটি সংগঠন যে কর্মসূচি দিয়েছে, তার প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন রয়েছে।