গাজীপুরে ৩ মাসের কমিটিতে ৮ বছর পার, হয়নি সম্মেলন যুবলীগের
২০১৫ সালে মহানগর এবং ২০১৬ সালে জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তাদেরকে সম্মেলন আয়োজনে ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর ২০১৫ সালে ১ আগস্ট গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি করে কেন্দ্র। পরের বছর গঠন করা হয় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। ওই দুই কমিটিতে ২১ জনকে করে ৪৪ জনকে সদস্য করা হয়। দুটি কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের আয়োজন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এত দিনেও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটিও। ফলে পদপ্রত্যাশী ও তৃণমূল নেতা–কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ।
পদপ্রত্যাশীদের ভাষ্য, কয়েক মাস পরেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে গাজীপুর মহানগর ও জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা না হলে বেশির ভাগ নেতা–কর্মী নির্বাচনের প্রচারে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমনটি হয়েছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে।
জেলা ও মহানগর যুবলীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কামরুল হাসান সরকারকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম, সুমন আহমেদ ও আলমগীর হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কমিটি গঠনের পত্রে উল্লেখ ছিল আহ্বায়ক কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে মহানগরের সম্মেলন সম্পন্ন করবে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠন শক্তিশালী হয় না। তাই আমারা তাদের কাছ থেকে সিভি চেয়েছি এবং দ্রুত ওয়ার্ড কমিটিগুলো সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
মহানগরের এক বছর পর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে এস এম আলতাফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আজাদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই আহ্বায়ক কমিটিকেও ৯০ দিনের মধ্যে সব উপজেলার কমিটি গঠন করে সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এত বছর পার হয়ে গেলেও আহ্বায়ক কমিটি দুটি সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও গঠন করতে পারেনি। তৃণমূল নেতাদের অনেকে আহ্বায়ক কমিটির পেছনে ঘুরতে ঘুরতে বিরক্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকেই যুবলীগ ছেড়ে আওয়ামী লীগের অন্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে যুবলীগের কোনো অনুষ্ঠান করতে লোকসংকট দেখা দেয়।
আমরা প্রায় ১৫ বছর ধরে যুবলীগের সঙ্গে জড়িত। এর আগে ছাত্রলীগ করেছি। এখন পর্যন্ত কমিটি গঠিত না হওয়ায় আমরা নেতা না হয়ে কর্মী হিসেবেই রয়ে গেলাম।
জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলে সংগঠন শক্তিশালী হয় না। তাই আমারা তাদের কাছ থেকে সিভি চেয়েছি এবং দ্রুত ওয়ার্ড কমিটিগুলো সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। সামনে নির্বাচনও চলে আসছে, তাই চেষ্টা করা হচ্ছে নির্বাচনের আগেই কমিটি গঠন করা।’
গাজীপুর যুবলীগের অচলাবস্থার জন্য মহানগরের আহ্বায়ক কামরুল হাসান সরকার ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এস এম আলতাফ হোসেনকে দায়ী করেছেন অনেকে। নেতা–কর্মীদের অভিযোগ, ওই দুই নেতা ক্ষমতা আর টাকাপয়সার প্রভাব খাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঝুলিয়ে রেখেছেন।
গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকার যুবলীগের কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৫ বছর ধরে যুবলীগের সঙ্গে জড়িত। এর আগে ছাত্রলীগ করেছি। এখন পর্যন্ত কমিটি গঠিত না হওয়ায় আমরা নেতা না হয়ে কর্মী হিসেবেই রয়ে গেলাম।’
মহানগর আহ্বায়ক কমিটি উদ্যোগ নিলেও ৫৭টি ওয়ার্ডের সব কটিতে কমিটির কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। এ পর্যন্ত ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করতে পেরেছে। আরও তিন-চারটি ওয়ার্ড কমিটি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও রহস্যজনক কারণে ঘোষণা করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের কয়েকজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, কমিটির কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটিতে থেকে দলের নাম ভাঙিয়ে পদ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। ভয়ে বিষয়টি নিয়ে কেউ কিছু বলেন না।
মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল হাসান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কর্মিসভা করতে বলা হয়েছিল, তাঁর জন্য আমরা সিভিও সংগ্রহ করেছিলাম। এর মধ্যে সব কটি ওয়ার্ড কমিটি না করায় সম্মেলন করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে করোনা ও সিটি নির্বাচনের কারণে পিছিয়ে যাই। যাঁরা পদের জন্য নির্বাচন করেন, তাঁদের অনেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে চলে গেছেন, এটা আমি অস্বীকার করব না। সংগঠন ঝিমিয়ে পড়েছে যাঁরা বলছেন, তাঁরা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।’
প্রায় একই কথা বললেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এস এম আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে আমাদের কোনো গড়িমসি নেই। আমরা নেতাদের সিভি কেন্দ্রে জমা দিয়েছি।’