উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে ট্রলারে সেন্ট মার্টিনে ফিরলেন আটকে পড়া ১৫৯ বাসিন্দা

কক্সবাজারের টেকনাফে আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে ছাড়ছে ট্রলার। আজ সকাল ১১টার দিকেছবি: প্রথম আলো

বৈরী পরিবেশের কারণে বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তল থাকায় ১০ দিন ধরে কক্সবাজারের টেকনাফের সঙ্গে প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের নৌপথের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এতে টেকনাফে আটকা পড়েছিলেন চিকিৎসা নিতে এবং জরুরি কাজে আসা দ্বীপের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ। আজ শনিবার টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খাল থেকে তিনটি কাঠের ট্রলারে তুলে ১৫৯ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পাঠানো হয়। বৃষ্টি এবং বৈরী পরিবেশের উত্তাল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে কাঠের তিনটি ট্রলার সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। তাতে বাসিন্দাদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

টেকনাফ থেকে ১৭ কিলোমিটার নাফ নদী ও ১৭ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্ট মার্টিনে যেতে হয়। আজ আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে কাঠের ট্রলারটিতে করে সেন্ট মার্টিনের ৩০০ পরিবারের জন্য ৫ মেট্রিক টন চালসহ খাদ্যপণ্য সহায়তা পাঠানো হয়।

সেন্ট মার্টিনে ট্রলার যাচ্ছে, এমন খবর পেয়ে সকাল ১০টার আগে কায়ুকখালী ঘাটে জড়ো হন শতাধিক নারী-পুরুষ। তাঁদের কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ সরকারি অফিস–আদালতে এবং কেউ খাদ্যপণ্য কিনতে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে টেকনাফ সদরে এসেছিলেন। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় এবং ভারী বর্ষণের কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে আটকে পড়া দ্বীপবাসী টেকনাফের হোটেল ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

সেন্ট মার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলারের চলাচল বন্ধ ছিল। টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর আজ বেলা সাড়ে ১১টায় কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে তিনটি সার্ভিস ট্রলারে ১৫৯ জনকে তোলা হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৮০ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী ও ৩৯ জন শিশু ছিল। উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে ট্রলারগুলো সেন্ট মার্টিনে পৌঁছায়।

নিরাপদে যাত্রীবাহী তিনটি ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর কথা তুলে ধরে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, নানা আশঙ্কা কাটিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে তিনটি কাঠের ট্রলার সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাতে পেরেছে। চেয়ারম্যান জানান, ট্রলারে করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্ট মার্টিনের জন্য পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দ্বীপের ৩০০ পরিবারে বিতরণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বৈরী পরিবেশে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকে বৃষ্টি কমায় এবং সাগর কিছুটা শান্ত হয়ে আসায় আটকে পড়া যাত্রীদের তিনটি কাঠের ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পাঠানো হয়েছে। সবাই নিরাপদে পৌঁছেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের মতো যাত্রীবাহী নৌযান চলতে পারবে।