জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রীকে বাসায় ডেকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ওই ছাত্রী তাঁকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করেছেন। পুলিশ আসামি ধরার চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী নারী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন।
মামলার আসামি এস এম তারিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায়। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে। তাঁকে প্রথমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি তাঁর বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই নারী শিক্ষক বলেন, প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সম্পর্ক ছিল। পরে ভেঙে যায়। তবে গতকাল মঙ্গলবার প্রাক্তন ওই ছাত্র ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে নানা অগ্রহণযোগ্য কাজ করেন। একপর্যায়ে প্রাক্তন ওই ছাত্র কথা বলার জন্য বাসায় যেতে ওই ছাত্রীকে জোরাজুরি করেন। তিনি রাজি না হলে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করেন। পরে প্রাক্তন ওই ছাত্রের বাসায় যান ভুক্তভোগী। তখন ছাত্রীর মুখ টেপ দিয়ে আটকে তাঁকে মারধর করা হয়, হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়। পরে বাসার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে প্রাক্তন ওই ছাত্র চলে যান। তখন ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে জানালে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ আকন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।