ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর পর ২৪ নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে দলীয় সমাবেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভা সফল করতে যশোর জেলা পরিষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় বিকেল থেকেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখা থেকে মিছিল নিয়ে কর্মীরা উপস্থিত হন। একপর্যায়ে মিলনায়তনে প্রবেশ নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দীন কবির ও সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদের সমার্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এতে মিলনায়তনে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে হুড়োহুড়ি করে ভেতর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন। একপর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দীন কবির বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো দ্বন্দ্ব নেই। হাতাহাতি ও সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রধান অতিথি প্রবেশের আগে কর্মীদের মধ্যে একটু হুড়োহুড়ি হতে পারে। এটা এমন কিছু নয়।
জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।’

এদিকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি ঘটনার প্রায় ৪০ মিনিট পর বর্ধিত সভায় উপস্থিত হন প্রধান অতিথি বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২৪ নভেম্বর যশোরের সমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা। যশোরের স্টেডিয়াম জনমানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হবে। আপনারা খেয়াল করবেন, কয়েক মাসে বিএনপি কয়েকটি বিভাগীয় সমাবেশ করেছে। সেখানে অল্পসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে সমাবেশ করলেও বিএনপির কিছু অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নকারী সমাবেশের ছবি এডিট করে জনসমাগম দেখিয়েছে।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দীন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ। জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বর্ধিত সভা শেষে ছাত্রলীগ শহরে প্রচার মিছিল বের করে।