প্রথম আলো: সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের গবেষকেরা কতটুকু উপকৃত হয়েছেন?

মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড: পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব গবেষক এসেছেন, তাঁরা কী ধরনের গবেষণা করছেন, সেটা আমরা জানতে পেরেছি। আবার তাঁরাও জানতে পেরেছেন, আমরা কী নিয়ে গবেষণা করছি। তাঁদের ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণাগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশের গবেষকেরা জানতে পেরেছেন। ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের কতজন গবেষক এই সম্মেলনে ছিলেন? দেশে মৎস্য গবেষণায় এই সম্মেলন কতটুকু প্রভাব ফেলবে?

মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড: বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুই শ গবেষক অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে একে অপরের গবেষণা নিয়ে নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। কিছু বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত হয়েছেন। জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাছের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক মাছ চাষের বিষয়ে উপস্থাপিত গবেষণাগুলোর মাধ্যমে নতুন কিছু গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

প্রথম আলো: সিলেট তথা হাওর অঞ্চলের মৎস্য গবেষণা নিয়ে কী কোনো গবেষণাপত্র সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়েছে?

মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড: সিলেট, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল মূলত দেশীয় মাছের আঁধার। এ সম্মেলনে হাওর অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় মাছ, উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে। বিভিন্নভাবে হাওর এলাকার পানি দূষিত হচ্ছে। বিশেষ করে, ভারতের মেঘালয় থেকে কয়লা ধোয়া পানি এসে যে দূষণ সৃষ্টি করছে, তা মাছ ও জলজ প্রাণীর ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া হাওর অঞ্চলে জলাবনগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে। পর্যটন ও মানবসৃষ্ট কিছু কারণে জলাবনগুলোর ঘনত্ব কমেছে। কিন্তু এ জলাবনগুলো দেশীয় মাছের প্রজননকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে হাওর অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বাড়াতে ও বিলুপ্তির হাত থেকে প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করতে এই জলাবনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম আলো: সিলেটসহ বাংলাদেশে মৎস্য গবেষণা এগিয়ে নিতে সম্মেলনে কী কী পরামর্শ ও সুপারিশ এসেছে?

মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড: বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্দেশীয় পানি দূষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানে এমন সুপারিশ এসেছে যে দুই দেশের গবেষকদের যৌথ গবেষণার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ করা যেতে পারে। মৎস্য চাষে বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়েছে, কিন্তু উন্মুক্ত জলাশয়গুলো এখন পর্যন্ত সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন করতে পারছে না, জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যেহেতু হাওর এলাকাসহ সারা বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে উন্মুক্ত জলাশয় রয়েছে, সেগুলো সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব।

উন্মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি হলো, পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছের অভয়ারণ্য তৈরি করে সেগুলোকে কমিউনিটি বেইজড ম্যানেজমেন্টের আওতায় আনা। দ্বিতীয়টি হলো, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়, খাল-বিলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন