নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্যের মৃত্যুর কারণে আজ ওই ওয়ার্ডে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছিল।

ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা খেয়াল না করায় এক নারী ভুল করে অন্য এক নারীর ভোট দিয়ে ফেলেছেন। এটা সংশোধনের সুযোগ নেই। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ায় আমি ওই নারীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।
সুমন সরকার, কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা

জাকিয়া সুলতানার গ্রামের বাড়ি খাজুরা ইউনিয়নের দুর্লভপুর। তিনি দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নাটোর শহর থেকে দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে যান। ভোটকক্ষে গিয়ে তিনি ইভিএমে নিজের আঙুলের ছাপ মেলান। তাঁর আগের এক নারী ভোটার গোপন কক্ষ থেকে বের হলে তিনি গোপন কক্ষে ঢুকে ভোট দেওয়ার জন্য পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বোতাম খুঁজছিলেন। এ সময় আগের ভোটার হঠাৎ আবার গোপন কক্ষে ঢুকে তাঁর পছন্দের প্রার্থীর বোতামে চাপ দিয়ে দেন। ভোট হয়ে যাওয়ায় জাকিয়া সুলতানা আর ভোট দিতে পারেননি। তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই শুরু করেন। ছুটে আসেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। তাঁদের পক্ষে কিছুই করার ছিল না বলে তিনি এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চান ওই নারীর কাছে। ভোট দিয়ে দেওয়া ওই নারী নিজেও ক্ষমা চান এবং বলেন, না বুঝেই তিনি কাজটি করে ফেলেছেন। তখন জাকিয়া সুলতানা মনের দুঃখে বলেন, ‘সবই কপাল, ১২ কিলোমিটার দূর থেকে এসেও ভোট দিতে পারলাম না।’

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, ‘ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা খেয়াল না করায় এক নারী ভুল করে অন্য এক নারীর ভোট দিয়ে ফেলেছেন। এটা সংশোধনের সুযোগ নেই। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়ায় আমি ওই নারীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।’

বিকেলে ভোট গণনা শেষে ওই ওয়ার্ডের প্রার্থী উৎপল কুমার ২৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।